কসবায় আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার এক বছরের মধ্যেই শুরু হল বিচারপর্ব। কলেজের প্রথম বর্ষের আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের প্রাক্তনী তথা কর্মী মনোজিৎ মিশ্র, মনোজিতের দুই সঙ্গী তথা ছাত্র জায়েব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিচারপর্ব শুরু হয়েছে আলিপুরের প্রথম এডিজের এজলাসে। গণধর্ষণে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ওরফে ম্যাংগো, জায়েব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় এখন জেল হেফাজতেই রয়েছে। জামিন পেয়েছে নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপর্বের প্রথম দিনেই সল্টলেকের সাইবার ফরেনসিক ও ডিজিটাল এভিডেন্স এগজামিনারস ল্যাবরেটরির এক বিশেষজ্ঞর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 'চিফ'-পর্ব হিসাবে তাঁর বক্তব্য নেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন।
বিচারপর্বের প্রথম দিনেই সল্টলেকের সাইবার ফরেনসিক ও ডিজিটাল এভিডেন্স এগজামিনারস ল্যাবরেটরির এক বিশেষজ্ঞর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 'চিফ'-পর্ব হিসাবে তাঁর বক্তব্য নেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন।
সেদিনও ওই বিশেষজ্ঞর সাক্ষ্যগ্রহণ চলতে পারে। তাঁকে প্রশ্ন করতে পারেন সরকারি আইনজীবী। ক্রমে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বিশেষজ্ঞকে 'ক্রস'ও করতে পারেন। সূত্রের খবর, এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী হলেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়। রাজু গঙ্গোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী।
গত বছর জুন মাসের শেষে সাউথ ক্যালকাটাল কলেজে ঘটেছিল এই গণধর্ষণের ঘটনা। এই ঘটনার পর নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার ৫৮ দিনের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ চার্জশিট পেশ করে। এই মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ৮৩। গত ১৪ জানুয়ারি এই মামলার চার্জ গঠন হয়। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে বিচারপর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তার দেরি হয়। এপ্রিল মাসে তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয় বিচারপর্ব। মামলার চার্জশিটে নির্যাতিতার মা ও বাবা অন্যতম সাক্ষী। বিচারপর্বেও ক্রমে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হতে পারে।
আদালতে পেশ করা পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, মনোজিৎ আইন কলেজের ইউনিয়ন রুমের দরজা বন্ধ করে আইনের ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। ওই ঘটনার আগেই জায়েব ও প্রমিত ওই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কারণ, তারা জানত যে, মনোজিৎ এরকম কিছু করবে ছাত্রীটির সঙ্গে। বিধ্বস্ত ছাত্রীটিকে ইনহেলার দিয়ে সুস্থ করে তুলে তাঁকে অপহরণ করে তথা টানতে টানতে তারা গার্ডরুমের ভিতর নিয়ে যায়। চার্জশিট অনুযায়ী, গার্ডরুমের ভিতর মনোজিৎ মিশ্র নির্যাতিতা ছাত্রীকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করে। সেই দৃশ্য মনোজিৎ নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তুলে রাখে। এর পর সে ওই ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে নির্যাতিতাকে বলে, এই ফুটেজ সে সবাইকে পাঠিয়ে দেবে। তাঁর সম্মান বলে কিছু থাকবে না। একমাত্র তিনি মনোজিতের কথামতো শারীরিক চাহিদা মেটালে সে ছাড় দিতে পারে। এর পর নির্যাতিতার আর কিছু করার ছিল না। সে সুযোগ বুঝেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। চার্জশিটে উল্লেখ করা রয়েছে যে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোজিতের কুকীর্তির ভিডিও জায়েব ও প্রমিত গার্ডরুমের ঘুলঘুলি তথা এক্সহস্ট ফ্যানের গর্ত দিয়ে দফায় দফায় তুলে রাখে। নির্যাতিতাকে মনোজিতের হুমকি থেকে শুরু করে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়। বিভিন্ন ভিডিওয় এক্সহস্ট ফ্যানের পাখার অংশও দেখা গিয়েছে। ওই ভিডিওগুলি তিনজনই তাদের কয়েকজন সঙ্গীকেও পাঠিয়েছিল। মনোজিৎ, জায়েব ও প্রমিতের তোলা ভিডিওগুলির ফরেনসিক রিপোর্টও পুলিশের হাতে এসেছে।
পুলিশের অভিযোগ, নির্যাতিতাকে যখন জোর করে গার্ডরুমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা দেখেই রুমটির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কোনও প্রতিবাদ না করেই ইউনিয়ন রুমের ভিতর গিয়ে বসে। গণর্ধষণের ঘটনার বিষয়টি জানার পরও সে বাইরে বের হয়নি। কলেজের গেটও তালাবন্ধ করে রেখেছিল সে। পুরো একদিন সময় পাওয়ার পরও এই নারকীয় ঘটনাটি সে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কাউকেই জানায়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীর জামিন হয়েছে। মনোজিৎ-সহ বাকি তিনজনকে হেফাজতে রেখেই বিচারপর্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
