shono
Advertisement
Sudip Bandyopadhyay

'আমার ভোট ফিরিয়ে দিন', এবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি তৃণমূল সমর্থকের

এর আগে সুদীপ-বিরোধী পোস্টার পড়ে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অংশে। যেখানে সাংসদকে 'চোর-বেইমান' বলে উল্লেখ করা হয়।
Published By: Kousik SinhaPosted: 03:22 PM Aug 13, 2026Updated: 04:37 PM Aug 13, 2026

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কে কোন শিবিরে আছে বোঝা দায়! আজ যাকে কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে ভোট দিলেন, কাল তিনি অন্য দলের পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন। যে দলের আপনি ঘোরতর বিরোধী, আপনার পছন্দ করা জনপ্রতিনিধি সেই দলেই নাম লেখাচ্ছে। গত দু-তিন মাসে এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ সামনে এসেছে। তাই এবার এক সাংসদের কাছে এক ভোটারের আর্জি, 'ভোট ফেরত দিন'। শুধু তাই নয়, ভোটাধিকার নিয়ে 'ছিনিমিনি খেলা' হয়েছে বলেও অভিযোগ ওই ভোটারের।

Advertisement

এর আগে সুদীপ-বিরোধী পোস্টার পড়ে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অংশে। যেখানে সাংসদকে 'চোর-বেইমান' বলে উল্লেখ করা হয়।

সরাসরি উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Bandyopadhyay) উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছেন ওই কেন্দ্রেরই ভোটার হেমন্ত দে। যা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েক দশকের পুরনো সঙ্গী ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুবাদে একাধিকবার উত্তর কলকাতা থেকে তৃণমূলের সাংসদও হন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন তৃণমূলের ২০ সাংসদ। সেই তালিকায় ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাত ধরে থাকলেও বর্তমানে এনসিপিআইতে নাম লিখিয়েছেন সুদীপ। কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপিআইতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীকালে নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে সুদীপবাবুকে। তবে তৃণমূলের টিকিটে জিতে এভাবে এনসিপিআইতে চলে যাওয়ায় কার্যত জনগণের মতামতে নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন তিনি, এমন অভিযোগ তুলেই সুদীপকে সরাসরি চিঠি লিখেছেন হেমন্ত দে নামে ওই ভোটার।

চিঠিতে হেমন্তবাবু লিখছেন, 'আপনার শারীরিক কুশল কামনা করে এই চিঠি। আমি মধ্য কলকাতার বৌবাজার অঞ্চলের বংশপরম্পরায় পুরনো বাসিন্দা এবং একজন প্রবীণ নাগরিক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের রাজ্যে পালাবদলের পর আমরা এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম। বিধানসভার নির্বাচন হল। কিন্তু লোকসভার সাংসদ ভিন্ন দলের হয়ে গেলেন। যে নাগরিক লোকসভা এবং বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করালেন, তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, তার পছন্দের জয়ী সাংসদ নিঃসঙ্কোচে একেবারে প্রতিপক্ষের শিবিরে চলে গেলেন সমর্থন দিতে।'

এখানেই শেষ নয়, সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে ওই ভোটারের প্রশ্ন, 'আমাদের সমর্থনে ভোটে জিতে আমাদের সম্মতি ব্যতিরেকে কিভাবে আপনি আপনার দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করেন। আমাদের সম্মতি, অর্থাৎ, পুনরায় আমাদের ভোটদান। আমার এই প্রশ্ন আইনের নয়, নৈতিকতার। নাগরিকদের পছন্দ, সমর্থন, সচেতন সিদ্ধান্তের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কোনও জনপ্রতিনিধির এককভাবে থাকতে পারে না।'' এহেন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তর কলকাতার এনসিপি সাংসদের কাছে 'ভোট ফিরিয়ে দেওয়ার' আবেদন রেখেছেন হেমন্ত দে।

বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে সুদীপ-বিরোধী পোস্টার পড়ে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অংশে। যেখানে সাংসদকে 'চোর-বেইমান' বলে উল্লেখ করা হয়। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটারের চিঠি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement