আর্জেন্তিনা-স্পেনের দ্বৈরথ এবার ড্রয়িং রুম ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ছে একেবারে সিনেমার স্ক্রিনে! এই প্রথমবার নন্দনের (Nandan) বিরাট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল (World Cup Final) দেখার বিরল সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আর খেলা দেখার সঙ্গী যদি হন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, তবে! সূত্রের খবর, রবিবার আমজনতার এই বিশ্বকাপ দর্শনের উদ্বোধনে থাকার কথা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। সঙ্গে থাকবেন একগুচ্ছ খেলাপ্রিয় মন্ত্রীরাও। অনেক আমলাই ফুটবল নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহিত। তঁাদের মধে্য অনেকেই হাজির হবেন। শুধু কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিনে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে থেকেই এ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতো, কীভাবে পুরো পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট প্রায় চূড়ান্ত। দফায় দফায় টেকনিক্যাল বিষয় দেখে নেওয়ার কাজও সেরে ফেলছেন সরকারি ইঞ্জিনয়াররা। বাকি ব্যবস্থাপনাও চলছে জোরকদমে। শুক্রবারও এ নিয়ে একদফা নিজেদের মধে্য বৈঠক সেরে নিয়েছেন তঁারা। আমলা মহলে জোর আলোচনা, এর আগে এ রাজে্য এভাবে খেলা দেখানোর কোনও ব্যবস্থা হয়নি। তবে বহু বছর আগে নন্দন-রবীন্দ্রসদনজুড়ে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় রাতভর একবার সিনেমা দেখানেরা ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অনেকের স্মৃতিতে রয়েছে। কিন্তু তা বলে ফুটবল বিশ্বকাপ, অতীতের কোনও নজরই যে নেই, তা স্পষ্ট জানাচ্ছেন তঁারা।
মূল পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকছে ক্রীড়া দপ্তর। অন্যান্য দপ্তরগুলির সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা করে নেওয়া হচ্ছে। জেলায় ক্রীড়াপ্রেমীরা যাতে রাত জেগে একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন, তার জন্য জেলায় জেলায় থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধে্যই রাজে্যর ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে ব্যবস্থা করার। এর জন্য প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন দপ্তরের সচিব রাজেশ পাণ্ডে।
পরিকল্পনা এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে যে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠে হাজির হতে না পারার আক্ষেপ এক লহমায় মুছে যাবে। স্টেডিয়ামের গর্জনের সঙ্গে গলা মিলিয়ে সোল্লাসে চিৎকার
করে ওঠা যাবে উত্তেজনার পরতে পরতে। সিনেমার স্ক্রিন হয়ে যাবে নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়াম! এমনটা এই শহর আগে কখনও দেখেনি। রাতভর খেলা দেখা, নিজের প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাটানো থেকে সেলিব্রেশন, বাদ যাবে না কোনও কিছুই। সেইমতোই রবীন্দ্রসদন, নন্দন, অ্যাকাডেমি চত্বরে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। থাকবে দুই দলের জাতীয় পতাকা, জার্সি থেকে মুখে রঙ লাগিয়ে উৎসবের মুড তৈরির ব্যবস্থাও। রাতের নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ গিয়েছে পুলিশের কাছে। যে দলই বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতুক, সেলিব্রেশনে কোনও কমতি থাকবে না। কলকাতার ফুটবল প্রেমের ইতিহাসে এমন রাত স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ক্রীড়ামহলও। ফইনালের রাতে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকতে পারেন নন্দনে। একই সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হবে বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটিকেও। তঁারাও কেউ কেউ থাকতে পারেন।
এত কিছুর মাঝেও আমলা মহলে একটা প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী কি আর্জেন্টিনার সমর্থক, নাকি স্পেনের? পাল্লা ভারী কোন দিকে? নীল-সাদা নাকি লাল-হলুদ? প্রশাসনের অভিজ্ঞরা বলছেন, সেটা বোঝা যাবে খেলা শুরু হলে...।
