shono
Advertisement

রক্ত সংরক্ষণে নয়া নিয়ম চালুর ভাবনা, নির্দেশিকা আনতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর

রক্ত সংরক্ষণ ও সঠিক প্রয়োগের তাগিদে নির্দেশিকা আনতে চলেছে রাজ্য।
Posted: 12:09 PM Mar 06, 2023Updated: 12:11 PM Mar 06, 2023

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: রক্ত এখন ওষুধ! ওষুধের মতোই প‌্যাকেট বা পাউচে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ওষুধের মতোই রক্ত নষ্ট হওয়ার নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তাই রক্ত সংরক্ষণ ও সঠিক প্রয়োগের তাগিদে নির্দেশিকা আনতে চলেছে রাজ‌্য স্বাস্থ‌্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই কয়েক দফা আলোচনার পর রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
ঠিক হয়েছে এখন থেকে সঠিক সময়ে, সঠিক রোগীকে, সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক সময়ান্তরে রক্ত দিতে হবে। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রক্তের দাম নিয়ন্ত্রণের উপরও। অর্থাৎ বেসরকারি ব্লাড ব‌্যাংক মওকা বুঝে যাতে বেশি দাম নিতে না পারে তার জন‌্যও নজরদারি থাকবে।

Advertisement

নয়া নিয়মে সরকারি ব্লাড ব‌্যাংকে হোল ব্লাড দেওয়া হবে না। রোগীর জন‌্য যে উপাদান দরকার সেটিই দেওয়া হবে। অর্থাৎ ‘যথাযথ ব‌্যবহার’-এর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তৈরি হয়েছে নতুন অ‌্যাপ। সরকারি হাসপাতালগুলিই রোগীর পরিবারকে বলে দেবে কোনও ব্লাড ব‌্যাংকে কত ইউনিট রক্ত বা উপাদান রয়েছে।
একদিকে রক্তের জন‌্য তীব্র হাহাকার আবার পর্যাপ্ত রক্ত থাকা সত্ত্বেও ফি বছর সেন্ট্রাল ব্লাড ব‌্যাংক বা সরকারি হাসপাতালে রক্ত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ। এই অসাম‌্য বন্ধ করতেই কোমর বেঁধে নেমেছে স্বাস্থ‌্যদপ্তর।

বিভাগীয় নোডাল অফিসার ডা. বরুণ সাঁতরা জানিয়েছেন, ‘‘রক্তের মধ্যে পাঁচটি উপাদান থাকে। যে রোগীর যে উপাদন দরকার সেটিই দিতে হবে। কিন্তু বড় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত, গর্ভবতীর সিজার অথবা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে, অথবা বড়মাপের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ‌্য হবে না। কারণ, সেই ক্ষেত্রে রোগীর সব উপাদন দরকার হয়।’’ দ্বিতীয়ত, রোগীর ব্লাড কাউন্ট ৭-এর উপরে থাকলে তাকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই মেডিক‌্যাল অফিসার বা চিকিৎসক ‘রিকুইজিশন’ লেখার সময় হিমোগ্লোবিন কতটা রয়েছে তার উল্লেখ‌ করবেন।

[আরও পড়ুন: জেলমুক্তির পর বিধানসভায় নওশাদ, কাছে পেয়েই ISF বিধায়ককে জড়িয়ে ধরলেন বিজেপি বিধায়ক]

ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৩৭টি থ‌্যালাসেমিক স্টেট ইউনিট থেকে রোগীদের হিমোগ্লোবিন দেওয়া শুরু হয়েছে। বরুণবাবুর কথায়, যার হিমোগ্লোবিন দরকার তাকে তাই দেওয়া হবে। যার অ‌্যালবুমিন দরকার তাকে তাই দিতে হবে – এমনভাবেই রক্তের রিকুইজিশন দিতে হবে চিকিৎসককে। রক্ত বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এক ফোঁটা রক্ত যেমন জীবন বাঁচায়। তেমনই রক্তের ব‌্যাপক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রয়োজনের বেশি রক্ত সঞ্চালন কিডনি, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। মেডিক‌্যাল কলেজের হেমাটোলজি অ‌্যান্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশনের বিভাগীয় অধ‌্যাপক ডা. বিপ্লবেন্দু তালুকদারের কথায়, ‘‘অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের ফলে হেমাচুরিয়ার মতো সমস‌্যা তৈরি করে। প্রাণহানি হয় রোগীর।’’

স্বাস্থ‌্যভবনের এককর্তার কথায়, যথাযথ ব‌্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েই নতুন নিয়ম চালুর জন‌্য স্বাস্থ‌্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের কাছে অনুমোদনের জন‌্য পাঠানো হয়েছে। ওই বিশেষজ্ঞর কথায়, সঠিক সময়, সঠিক রোগীকে সঠিক মাত্রা ও সঠিক দামে ওষুধ দিলে যেমন রোগী সুস্থ হয়। তেমনভাবেই রক্তকে সেইভাবে ব‌্যবহার করতে হবে। আবার সরাসরি রক্ত সঞ্চালনের আগে ফুসফুস বা কিডনির সেই রক্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কিনা তা-ও ভাল করে বুঝে নিতে হবে চিকিৎসককে।

আবার বিভিন্ন ব‌্যক্তির রক্তে বিভিন্ন অ‌্যান্টিবডি থাকে। আবার অন্যের রক্ত সঞ্চালনের পর রোগীর শরীরে ‘ফরেন প্রোটিন ঢুকে যায়। সেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাই এবার থেকে রক্তে রিকুইজিশন দেওয়ার আগে পাঁচবার ভাবতে হবে চিকিৎসককে। ডা. বরুণ সাঁতরার কথায়,‘‘বছরে ১০ লক্ষ ইউনিট রক্তের দরকার। তার মধ্যে সাড়ে ন’লাখ ইউনিট ইতিমধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে। কিন্তু কৃত্রিম চাহিদা যাতে না হয় তার জন‌্য বেসরকারি ব্লাডব‌্যাংকে নজরদারি শুরু হয়েছে।

[আরও পড়ুন: শার্টের উপরে স্পষ্ট স্তনবৃন্ত, সুজয়প্রসাদকে ব্রা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব শ্রীলেখার!]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement