সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। ক্রমশ চড়ছে পারদ। এর মধ্যেই রবিবার কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কেজরিওয়াল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) এক আসনে বসিয়ে বিজেপি নেত্রীর মন্তব্য, ''দিল্লি থেকে বিদায় নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এবার পালা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।'' এমনকী সরকারি প্রকল্পের নাম বদল নিয়েও তোপ দাগেন রেখা। যা নিয়ে পালটা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানের ফাঁকা চেয়ারের ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, "সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়াম নেওয়ার দরকার কী, যদি অর্ধেক ফাঁকাই থাকে! পুরসভার যে কোনও একটা ওয়ার্ডের কমিউনিটি হল নিলেই মিটে যায়। বিজেপির মহিলা সম্মেলন! মঞ্চে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, এ রাজ্যের ওদের দলের সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা। ফাঁকা চেয়ারের সংখ্যা বেশি। এতেই বোঝা যায় সংগঠনের কী হাল।"
কলকাতার সায়েন্স সিটির বিশাল অডিটোরিয়াম। শক্তিস্বরূপা নারী সমাবেশে মঞ্চ আলো করে ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা যাদব। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি ফাল্গুনী পাত্র। কিন্তু সামনে যে চেয়ার অধিকাংশই ফাঁকা! ভরেনি অডিটোরিয়ামও। তারই মধ্যে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন রেখা গুপ্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'দিদি এবং আম আদমি পার্টির নেতা কেজরিয়ালকে 'ভাইয়া' সম্বোধন করে বিজেপি নেত্রীর মন্তব্য, ''দিল্লিতে ছিলেন ভাইয়া আর বাংলায় দিদি। ভাইয়াকে বিদায় জানানো হয়েছে। এবার পালা দিদির।'' এখানেই শেষ নয়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একআসনে বসিয়ে রেখা গুপ্তের দাবি, '' দু’জনেই এক রকম। সব কিছুতেই নিজেদের নাম চান। টাকাটা মানুষের, অথচ আপনারাই তা অকারণে আটকে রাখছেন কেন?”
মঞ্চে যখন এমন বক্তব্য রাখছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, সেই সময় ফাঁকা গোটা অডিটোরিয়াম। বেশিরভাগ চেয়ারই ফাঁকা। প্রশ্ন উঠছে, একটা সমাবেশে হলের অর্ধেক আসন যদি ফাঁকা থাকে, তাহলে সংগঠনের কী হাল। বুথ স্তরে সংগঠন কোথায় লড়ার মতো। পরিস্থিতি বুঝে সভায় দাঁড়িয়ে নিজে থেকে প্রসঙ্গ টেনে এনে শমীকবাবু সাফাই দিয়ে বলেছেন, "অনেকেই বলছেন, কেউ জিজ্ঞেস করছেন, সভা ফাঁকা কেন। হল কেন ভরেনি। আসলে এটা আমন্ত্রণভিত্তিক যোগদানের বিষয়। আমরা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে এনেছি তাঁর কথা শুনতে। তাই সভার সব চেয়ার ভরার বিষয়টা বড় নয়।”
