সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছেলের ছোটবেলার ছবি এখন তাঁর একমাত্র সঙ্গী। সেই সাদা-কালো ছবি গঙ্গা মালিকের জীবনের সব রং যেন কেড়ে নিয়েছে। ছোট্ট ফ্রেমের মধ্যে অমিতাভকে পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন গঙ্গাদেবী, শহিদের হতভাগ্য মা। বুক ভরা দুঃখ নিয়েই বলে গেলেন বাংলা নিয়ে অমিতাভের আবেগের কথা।
[‘পারলাম না ওকে ফিরিয়ে আনতে’, আর্তনাদ স্বামীহারা বিউটির]
নিহত এসআই অমিতাভ মালিক মাকে বলেছিলেন, দার্জিলিংকে কোনওভাগেই ভাগ হতে দেবেন না। বুকে একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে জন্মদাত্রী মা জানালেন, বাংলা ভাগ না হলে তাঁর ছেলের আত্মা সত্যিকারের শান্তি পাবে। চার-পাঁচ দিন আগেও কথা হয়েছে। মা গঙ্গাদেবীর নিয়মিত খোঁজ নিতেন অমিতাভ। বাড়ির আদরের শানু। সবসময় মাকে অমিতাভ বলতেন, একা ছেলের নয়, অন্যদের কথাও ভাবতে। অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া শান্ত স্বভাবের শানুর কথা বারবার তাই উঠে আসে। প্রথম চাকরি পেয়ে মা, বাবা এবং ভাইকে মোবাইল কিনে দিয়েছিল শানু। কয়েক দিন আগে ফোন খারাপ হওয়ায় গঙ্গাদেবী ছেলেকে ফোন করতে পারেননি। সন্তান বুঝতে পারেনি মায়ের পরিস্থিতি। জানার পর মাকে বলেছিল বাড়ি ফিরে নতুন ফোন কিনে দেবে। বহুবার মা গঙ্গাদেবী বাবা সৌমেন মালিক ছেলেকে বুঝিয়েছিলেন পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিতে। কিন্তু অমিতাভর নেশা এবং এই পেশার প্রতি সম্মান মা-বাবাকে মুগ্ধ করেছিল। আর তাঁরা জোরাজুরি করতে পারেননি। তিনটে চাকরি ছেড়ে পুলিশে। রাজ্য পুলিশে ইন্টারভিউর সময় অমিতাভকেও শুনতে হয়েছিল কেন এই পেশায়। গঙ্গাদেবীর কথায়, দেশ সেবার জন্যই সব ছেড়ে পুলিশের চাকরিতে গিয়েছিল সাধের ছেলে।
[‘গুরুং মাথায় গুলি খেলে শান্তি পাবে অমিতাভ’, ডিজির কাছে আরজি বিউটির]
নিজের পছন্দে অমিতাভ বিয়ে করেছিলেন বারাসতের বিউটিকে। অল্প দিনে শ্বশুরবাড়ির সবার মন জয় করে নিয়েছিল বউমা। অমিতাভর চাকরিতে সংসারে অভাব ঘুচেছিল। তাঁর বিয়ের পর সংসারে সত্যিকারের সুখ এসেছিল। দুই ছেলে, পুত্রবধূকে নিয়ে বেজায় আনন্দে ছিলেন সৌমেনবাবু ও গঙ্গাদেবী। তবে সুখ বেশিদিন সইল না। চিরতরে ছুটি হয়ে গেল অমিতাভর। মায়ের হৃদয় কেন বুঝবে সেই কথা। তাই ডুকরে কেঁদে চলা। জ্ঞান হারানো। এটাই কী নিয়তি। দীর্ঘশ্বাস ঘুরে বেড়াচ্ছে মধ্যমগ্রামের মালিক পরিবারে। বাড়ির সত্যিকারের মালিক যে আর নেই!
The post দার্জিলিংকে ভাগ হতে দেব না, মাকে শেষ কথা অমিতাভর appeared first on Sangbad Pratidin.
