সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া আসনটি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক শিবিরের ফলাফল এখানে বিশেষ ভালো হয়নি। কিন্তু চব্বিশের নির্বাচনে সেই আসনটি নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পুরুলিয়ায় নির্বাচনী সভা করে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় কর্মিসভায় একেবারে চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, যদি এই আসন তৃণমূল (TMC) জিততে না পারে, তাহলে বুথ স্তর থেকে গোটা জেলা নেতৃত্ব বদলে দেবেন। বাদ যাবেন না জনপ্রতিনিধিরাও।
শুধু নির্বাচনী প্রচারসভা কিংবা রোড শো-র মাধ্যমে জনসংযোগ নয়। লোকসভা ভোটের (Lok Sabha Election 2024)রণকৌশল স্থির করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় দলের কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করছেন। বৃহস্পতিবার তিনি গিয়েছিলেন পুরুলিয়ায় (Purulia)। সূত্রের খবর, জেলা কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, ''যেখানে লিড পাব না, বুথ, অঞ্চল, ব্লক, বিধানসভা - জেলা থেকে বুথস্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে সরিয়ে দেব। যদি হারি, একেবারে বুথ থেকে নতুন নেতৃত্ব তুলে এনে আগামী বিধানসভা নির্বাচন করব।'' এদিন বৈঠকের শুরুতেই নেতাদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ''সকাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বন্ধ করে মানুষের কাছে যান।'' আসলে, পুরুলিয়া জেলায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে একাধিক দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিষেকের কাছে রিপোর্ট। তা মেটাতে এই বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। বললেন সমন্বয় বজায় রাখার কথা।
[আরও পড়ুন: ‘আগে দেবাংশুর বিরুদ্ধে লড়ুন’, তমলুক থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ মমতার]
তবে এদিনের বৈঠকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জানালেন, ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে যে কোনও সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে দল। সূত্রের খবর, এই মর্মে বিধানসভায় একটি আইন পাশ হতে চলেছে বলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ছাড়পত্র মিলতে চলেছে, তা গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে পারে। এতদিন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে পদক্ষেপ নেওয়া যেত না। কিন্তু অভিষেকের কথা ইঙ্গিত, এবার তা যাবে।
[আরও পড়ুন: মহিলা অসন্তোষের অভিযোগে প্রচারে যেতে ‘বাধা’! কল্যাণ-কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন কাঞ্চন]
পুরুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। নির্বাচন পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা তৃণমূলের সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া। এঁদের তিনজনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বলে অভিযোগ ওঠামাত্রই অভিষেক তাঁদের নির্দেশ দেন, প্রতি সপ্তাহে তিনদিন করে এঁদের একসঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। শান্তিরাম মাহাতোর প্রচার কৌশলও ঠিক করে দেন তিনি। ভোটের আর একমাস বাকি। এর মধ্যে ১৭০ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রার্থী নিজে যেন অন্তত ৮০ টি অঞ্চলে প্রচারে যান। এছাড়া তাঁকে প্রতিদিন তিনটি অঞ্চলে তিনটে মিছিল, একটিতে জনসভা করতে হবে। সবমিলিয়ে পুরুলিয়া দখলে আলাদা রণকৌশলই ঠিক করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।