রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি আরও এক। এবার পুরুলিয়ায় মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর। ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হল পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লকের বড়রা অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের। অভিযোগ, প্রথম দফার ভোটের পরই বিজেপির হাতে আক্রান্ত হন তিনি। বুধবার রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই হাসপাতালে গত ২৪শে এপ্রিল থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মাথায় গুরুতর চোট থাকায় থাকায় ২৫ তারিখ অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু তার জ্ঞান ফেরেনি।
অভিযোগ, জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় কোন আসন কে পাবে এ নিয়ে আলোচনা পর্বেই গত ২৪ এপ্রিল কাশীপুর থানার মনিপুর গ্রামে হামলার শিকার হন তৃণমূলের এই অঞ্চল সভাপতি। পুরুলিয়ার কাশীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, "পুরুলিয়ার এই সংস্কৃতি ছিল না। গত ১৫ বছরে এমন কোন ঘটনা এই জেলায় ঘটেনি। রাজনীতিতে হার-জিত থাকবেই। সকলকে অনুরোধ করব কোনরকম হিংসা যাতে এই জেলায় প্রবেশ না ঘটে। যা ঘটলো তা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের ক্ষতি হলো। "
তবে এটিকে রাজনৈতিক ঘটনা বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, "মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু আমি আগেই বলেছিলাম এই ঘটনা রাজনৈতিক নয়। এটি একটি পারিবারিক ঘটনা।" এই ঘটনায় কাশিপুর থানায় মামলা রুজু হওয়ায় মৃত অঞ্চল সভাপতির দেহ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত হবে আসানসোলে।
পুরুলিয়া জেলায় প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছিল গত ২৩ শে এপ্রিল। ২৪ এপ্রিল মনিপুর গ্রামে পুরুলিয়ার কোন বিধানসভায় কে জিতবে তা নিয়ে আলোচনা চলছিল একটি হরি মন্দির। সেখানে বিজেপি কর্মীরা যারা তৃণমূলের পক্ষে কথা বলছিলেন তাদেরকে মারধর করে বলে অভিযোগ। বড়রা অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মন্ডলকে দুই বিজেপি কর্মী একটি কাঠ নিয়ে আঘাত করে বলে কাশীপুর থানায় অভিযোগ হয়েছে। অঞ্চল সভাপতির মাথায় গুরুতর চোট থাকায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে রেফার করে দিলে ওই অঞ্চল সভাপতিকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।
