রাজ্যে সবেমাত্র নতুন সরকার গড়েছে বিজেপি। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমন দিনেই বিজেপি বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের আদলে রাজ্যের অন্যান্য বিরোধীদের জোট বাঁধার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজের বাড়ির সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের সময় তাঁর আহ্বান, বাম, অতিবামেরাও এই লড়াইয়ে শামিল হয়ে তৈরি করুক যৌথ মঞ্চ। তবে সিপিএম পত্রপাঠ মমতার এই প্রস্তাব খারিজ করে দিল। লিখিত বিবৃতি দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানিয়ে দিলেন, 'না। একদম না।'
মহম্মদ সেলিম ও সিপিএম, পশ্চিমবঙ্গের তরফে ফেসবুক পোস্ট করে জানিয়েছেন, 'অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে, এমন কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।' এই পোস্ট শেয়ার করে সহমত পোষণ করেছেন সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডও।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পোস্ট
মহম্মদ সেলিম ও সিপিএম, পশ্চিমবঙ্গের তরফে ফেসবুক পোস্ট করে জানিয়েছেন, 'অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে, এমন কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।' এই পোস্ট শেয়ার করে সহমত পোষণ করেছেন সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডও। শুধু তাই নয়, তৃণমূলনেত্রীর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন টিএমপিসি নেতা সুপ্রিয় চন্দও। বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে বামেদের সঙ্গে নেওয়ার এই আহ্বানের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
বিভিন্ন সময় বিরোধী অবস্থান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নেওয়ার এই প্রবণতা আজকের নয়, বহু আগেকার। পরিস্থিতি সাপেক্ষে জোটসঙ্গীদের প্রতি আহ্বান বদলে যায়। ২০১১ সালে রাজ্য থেকে বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করতে কংগ্রেসের হাত ধরেছিল তৃণমূল। ২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বামেদেরই লড়াইয়ের সঙ্গী হিসেবে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী অতিবামেও তাঁর আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিরোধিতার জন্য কারও হাত না ধরে বামেরা যে একাই নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের সিপিএম নেতৃত্ব। সেলিমের সাফ বক্তব্য, যে তৃণমূলের সঙ্গে যেভাবে দুর্নীতি, তোলাবাজির সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে, তা বিবেচনা করেই মমতার প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না সিপিএম।
