প্রথমবার কলকাতার যুবভারতীতে মেসিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ওই ঘটনাকে তৃণমূলের 'মহাজঙ্গলরাজের ফল' বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) জন্য ঠাকুরনগরের সভা থেকে মেসিকাণ্ডের জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করলেন মোদি।
এদিনের সভা থেকে তিনি জানান, যুবভারতীর ঘটনায় বিশ্বের কাছে মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, "কয়েকমাস আগে কলকাতায় যা কিছু হয়েছে, বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যে ছবি উঠে এসেছে তা মহাজঙ্গলরাজের পরিণাম। বাংলার সব খেলোয়াড়কে ভরসা দিচ্ছি, খেলো ইন্ডিয়া অভিযানে বাংলায় নতুন স্পোর্টস ইকোসিস্টেম তৈরি করা হবে।"
উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর ‘গোট ট্যুরে’ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো ডি পল। কিন্তু হাজার হাজার টাকা দিয়েও মাঠে ভিড়ের কারণে দর্শকরা মেসিকে দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মাঠ ছাড়তেই গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ভেঙে ফেলা হয় ব্যানার। তারপর ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। এই ঘটনায় মেসির সফরের মূল উদ্যোক্ত শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিন পান। যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার পরই মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে সেই কমিটি অতি তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে শুরু দিয়েছে। যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে একগুচ্ছ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করে রাজ্য। তদন্ত কমিটির সুপারিশ মেনে সিট গঠন করা হয়েছে। শোকজ ও সাসপেন্ড করা হয়ে একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিককে। যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে ক্রীড়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অরূপ বিশ্বাস।
যুবভারতীর ঘটনায় দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই দর্শকদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার জন্য আয়োজকদের নির্দেশ দেয় পুলিশ। আয়োজকরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বিক্রি হওয়া টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত টাকা ফেরতের কাজ শুরু হয়নি। কোনও দর্শকই টাকা ফেরত পাননি।
