বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। পাশাপাশি খুন হয়েছেন তিন তৃণমূল কর্মীও। বাংলার ভোটপরবর্তী হিংসার জেরে বর্তমানে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই চন্দ্রনাথের রহস্যমৃত্যুতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করেননি, তবে তাঁর কথায়, 'এটা আদ্যন্ত পূর্ব পরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথায় খুন।' এবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘাসফুল শিবিরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রতিবাদী সুর চড়়ালেন রুদ্রনীল ঘোষ। তদন্তের দাবিতে সরব অগ্নিমিত্রা পালও।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় হামলা হয় চন্দ্রনাথের উপরে। বাইকে করে এসে দুই দুষ্কৃতী পথ আটকায় শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের গাড়ির। এর পরেই এলোপাথাড়ি গুলি করে পালায় তারা। বাইকটিতে নম্বর প্লেট ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। চন্দ্রনাথের বুকে-পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। হামলায় আহত হন গাড়ির চালকও। তড়িঘড়ি শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে মধ্যমগ্রামের ভিভা সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকরা জানান তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, "চন্দ্রনাথকে আমরা 'মিস্টার ডিপেন্ডেবল' বলি। ও বরাবরই অরাজনৈতিক। নিজাম প্যালেস থেকে ফিরছিল সোয়া দশটা নাগাদ ওর উপর চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এটার তদন্ত হবেই। সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।"
নিহত শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করে রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, "তৃণমূল প্রমাণ দিল তারা তৃণমূল। ভাই চন্দ্রনাথ রথ শুধু শুভেন্দুদার আপন ছিল না,আমাদের সবার আপন ভাই ছিল,মনে রেখো তৃণমূল।" রুদ্রনীলের এহেন বার্তায় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা উত্তরোত্তর বাড়ছে। কারণ তাঁর অভিযোগের তীর স্পষ্টতই শাসক দলের দিকে। যদিও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের তরফে বিবৃতি জারি করে লেখা হয়েছে, "আজ রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এই সঙ্গে নিন্দা জানাচ্ছি আদর্শ আচরণ বিধি লাগু থাকা সত্বেও নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় গত তিন দিনে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে তিনজন টিএমসি কর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনাকেও। আমরা এই বিষয়ে কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি, যার মধ্যে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তও অন্তর্ভুক্ত, যাতে দোষীদের শনাক্ত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা যায়।"
