সারা দেশের রাজনৈতিক নজর আবার ঘুরে এসেছে বাংলার দিকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) সামনে রেখে বিরোধী শিবিরে এক অদ্ভুত ঐক্যের সুর— লক্ষ্য একটাই, বাংলায় আবার ক্ষমতায় ফিরুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী—ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের বার্তা একই: বাংলার ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে জাতীয় রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলার নির্বাচন আর শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই নয়— এ যেন ২০২৬-এর বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সেমিফাইনাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় মানে শুধু নবান্নে প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বিরোধী ঐক্যের মনোবল বাড়ানো এবং বিজেপির সর্বভারতীয় দাপটে নতুন প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেওয়া। এই অঙ্কেই এখন ব্যস্ত দিল্লি থেকে চেন্নাই, লখনউ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত বিরোধী রাজনীতি।
বিরোধী শিবিরে এক অদ্ভুত ঐক্যের সুর— লক্ষ্য একটাই, বাংলায় আবার ক্ষমতায় ফিরুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী—ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের বার্তা একই: বাংলার ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে জাতীয় রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।
কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও সংযত। কিন্তু দলের অন্দরে ভিন্ন সুর ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ রেণুকা চৌধুরি প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোন। এই মন্তব্য জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে, কংগ্রেসের একাংশ অন্তত বাংলায় তৃণমূলের সাফল্যকেই বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে জরুরি বলে মনে করছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, প্রত্যেকেই সরাসরি বা পরোক্ষে যোগাযোগ রাখছেন মমতার সঙ্গে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র উদ্ধব ঠাকরে, এমনকী দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল— সবাই চান, বাংলার মাটিতে বিজেপি আবারও থমকে যাক।
বিরোধী শিবিরের হিসেব স্পষ্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেমন বিজেপির প্রবল প্রচারযন্ত্র ও সংগঠন সত্ত্বেও শেষ হাসি হেসেছিল তৃণমূল, তেমনই ছবি যদি ফের ফিরে আসে, তা হলে 'অজেয় বিজেপি' তত্ত্বে আরও বড় ধাক্কা লাগবে। ২০১৪-র পর থেকে যে রাজনৈতিক ‘অশ্বমেধ’-এর ঘোড়া ছুটে চলেছে, তাকে আটকাতে বাংলার মাটিকেই আবারও সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।
