ভোটের (Assembly Elections 2026) আগে ফের টাকা উদ্ধার। নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলা-অসম সীমানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুঙ্গে। এই আবহে বক্সিরহাট থানা এলাকার দু'টি পৃথক নাকা চেকিং পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি গাড়ি থেকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ ও এসএসটি টিমের আধিকারিকরা। এই ঘটনায় অসমের এক বাসিন্দা-সহ ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল পুলিশ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নগদ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে অসম থেকে বাংলায় প্রবেশের পথে বক্সিরহাটের জোড়াই মোড় নাকা চেকিং পয়েন্টে পশ্চিমবঙ্গের নম্বর প্লেটের একটি চার চাকা গাড়ি আটক করে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। তল্লাশিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৫৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার হয়। গাড়িতে থাকা দার্জিলিঙের বাসিন্দা বীরেন্দ্র সাহা কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, ওই একই সময়ে সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টে কুমারগ্রামের বারবিশার বাসিন্দা বিকাশ সাহার গাড়িতে তল্লাশি চালায় বক্সিরহাট থানার পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। তিনিও টাকার কোনও নথিপত্র দিতে না পারায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। সোমবার সকালে ফের সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টে অসমের নম্বর প্লেটের একটি গাড়িকে বাংলায় প্রবেশের সময় আটক করেন এসএসটি টিম ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। সেই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। অসমের বাসিন্দা টোটন ভৌমিক টাকাগুলির বৈধ নথি দেখাতে না পারায় পুলিশ টোটোনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাসা শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সঠিক নথি ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি নগদ অর্থ নিয়ে যাতায়াত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় তিনটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে নির্বাচনের আগে এই টাকা কোনও অসাধু কাজে বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের চৌপতি সংলগ্ন এলাকায় অসম থেকে আসা এক দম্পতির গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে কলকাতার ইকো পার্ক থানা এলাকা থেকেও গাড়ির ডিকি থেকে উদ্ধার হয় ২৫ লক্ষ টাকা। এসব টাকার কোনও নথিপত্র না থাকায় সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ভোটের আগে এরকম তল্লাশি অভিযান আরও চলবে বলে জানানো হয়েছে।
