রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আর দিন কয়েক বাকি। তুঙ্গে চলছে রাজনৈতিক প্রচার। সেই আবহে ফের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হল দুর্গাপুরে। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিহারের দুই যুবককে। গতকাল, শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর স্টেশন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গুড্ডু রায় ও তপনকুমার মিত্র। ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৫০ লক্ষ টাকা। রেল পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। প্রসঙ্গত, বর্ধমান পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২৩ তারিখ ভোট।
ভোটের কারণে রাজ্যজুড়েই নাকাতল্লাশি চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশের তরফে সড়কপথে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন তল্লাশি অভিযান চলছে। রেল স্টেশনগুলিতেও কড়া নজরদারি চলছে। রেলপুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল রাতে ট্রেন থেকে ওই দুই যুবক দুর্গাপুর স্টেশনে নেমেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে একটি বড় ব্যাগ ছিল। ওই ব্যাগ দেখেই রেলপুলিশের সন্দেহ হয়। তাঁদের পাকড়াও করে প্রাথমিক জেরা হয়। ওই দু'জনের কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলতেই ভিতরে দেখা যায় বান্ডিল বান্ডিল নোট। ওই দু'জনকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিশ।
পরে গুনে দেখা যায়, ব্যাগে মোট ৫০ লক্ষ টাকা রয়েছে। ওই টাকার কোনও রশিদ পাওয়া যায়নি। পুরো টাকাই বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিহার থেকে দুর্গাপুর স্টেশনে নামার পর হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ওই দুই যুবকের। কিন্তু ওই টাকা কোথায়, কার কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? ভোটের কাজে কি ওই টাকা ব্যবহার হত? ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ, শনিবার ধৃতদের আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, "বিহার থেকে টাকা এনে কাজে লাগাতে যাচ্ছেন কিন্তু এই রাজ্যের প্রশাসন তৎপরতার সাথে কাজ করছে। আবারও প্রমাণ হয়ে গেল। হেলিকপ্টারে করে টাকা আনা হচ্ছে। মানুষ সব বুঝতে পারছে, নির্বাচনে জবাব দেবে।" অন্যদিকে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, এইসব অভিযোগ করে লাভ নেই। বিজেপির পাশে মানুষ রয়েছে।
কলকাতার বালিগঞ্জেও ২৫ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। গতকাল, শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে উদ্ধার হয়েছে চার লক্ষ টাকা। এদিন খানাকুলে হুগলি-পশ্চিম মেদিনীপুর সীমানায় নাকাচেকিং চলাকালীন খানাকুলে উদ্ধার হল ৮০ হাজার টাকা। নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
