দ্বিতীয়দফা ভোটের (WB Assembly Election 2026) আর মাত্র কয়েকঘণ্টা। একেবারে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভোটার স্লিপও! এবার এই স্লিপ পৌঁছে দেওয়ার কাজে বিএলওদের নিযুক্ত করেছে কমিশন। আর সেই ভোটার স্লিপ দেওয়ার নামে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিএলও'র বিরুদ্ধে। এরপরেই অভিযুক্ত ওই বিএলও'র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালেন এক ব্যক্তি। ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭০ নম্বর বুথের সাত ভাই কালিতলা এলাকায়৷ যদিও এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেই পালটা দাবি অভিযুক্ত বিএলও'র।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই বিএলও'র নাম মৃন্ময়ী রায়। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষাকতার কাজ করেন। এলাকার ৭০ নম্বর পাটের বাসিন্দা তথা অভিযোগকারী সুশীল বিশ্বাসের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই বিএলও মৃন্ময় রায় তাঁর ভোটার স্লিপ দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় বেশ কয়েকদিন ধরেই সুশীলবাবুর ভোটার স্লিপ আটকে রাখে। পাশাপাশি সুশীল বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, প্রথমে সংশোধনী ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম আসেনি। ডাকা হয়েছিল শুনানির জন্য। সে সময়ও মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা 'তোলা' অভিযুক্ত ওই বিএলও তাঁদের কাছে চেয়েছিলেন বলেও দাবি।
অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই বিএলও মৃন্ময় রায় তাঁর ভোটার স্লিপ দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় বেশ কয়েকদিন ধরেই সুশীলবাবুর ভোটার স্লিপ আটকে রাখে।
নতুন করে ফের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে অভিযুক্ত ওই বিএলও'র বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান সুনীলবাবু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়েই ছুটে আসে স্থানীয় বনগাঁ থানার বিশাল পুলিশ। কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন তাঁরা। এদিকে ঘটনার পরেই ইমেল মারফৎ অভিযুক্ত ওই বিএলও'র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান সুশীল বিশ্বাসের মেয়ে প্রিয়া বিশ্বাস। জানা যাচ্ছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এলাকার এক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির দাবি, এলাকার প্রায় ৫০ জন ভোটারের কাছ থেকে ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেবার জন্য টাকা নিয়েছেন অভিযুক্ত বিএলও। এমনকি নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) এই কিছু সময় আগেও তিনি ভোটার স্লিপ দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএলও মৃন্ময় রায়। তিনি বলেন, কোন ভোটারের কাছ থেকে স্লিপ দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হয়নি। তাঁর বুথে শুধুমাত্র একজন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
