আচমকা দ্বিতীয় বিয়ে সেরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রী ও কন্যা আইনি পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। ফলে ছাব্বিশে এই বিতর্কিত বিধায়ক ফের টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিলই। সোমবার বিজেপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতেই দেখা গেল, নিজের জেতা আসন খড়গপুর হাতছাড়া হিরণের। সেই আসনে ফিরে এসেছেন প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। বিজেপির এই সিদ্ধান্তে খুশি হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তিনি বললেন, "ও খড়গপুরের লজ্জা।"
বেনারসের ঘাটে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে হিরণ।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনে বিজেপির হয়ে লড়াই করেছিলেন দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২০২১-এ তাঁকে সেই আসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি জিতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু দিলীপ ঘোষের জায়গায় হিরণকে মানতে পারেননি অনেকেই। পরবর্তীতে দিলীপের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে দলের। কোণঠাসা হয়ে যান তিনি। তবে ছাব্বিশের আগে বিজেপি বুঝেছে দিলীপের মর্ম। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের মঞ্চে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে তিনি টিকিট যে পাবেন তা মোটের উপর নিশ্চিত ছিলই। খড়গপুর সদর দিলীপের চেনা ভূমি, নিঃসন্দেহে পছন্দের সিট। তবে কোন আসনে পাবেন তা নিয়ে নানামহলে নানা মত ছিল, কারণ হিরণ।
এদিকে গত কয়েক মাসে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে একেবারে ব্যাকফুটে হিরণ। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশাল মিডিয়াতেও রীতিমতো কাটাছেঁড়া চলেছে। এসবের মাঝে সেই হিরণের উপর পদ্মশিবির ভরসা করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল, জেতা খড়গপুর সদরে এবার বিজেপির আস্থাভাজন সেই দিলীপ। প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় নাম নেই হিরণের। আর এই খবরে খুশি হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তিনি বলেন, "কোনও মানুষের চারিত্রিক গুণ থাকলে মানুষ তাঁকে ভরসা করতে পারে। মানুষ যা ভেবে ভরসা করেছিল, আসলে তা তো নয়, মুখোশটা খুলে গেছে। মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ও খড়গপুরের লজ্জা।"
