ডুয়ার্সের পদ্মবনে প্রার্থী অসন্তোষের জেরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা! ভোটের (Bengal Election 2026) আগে সেই কাঁটা উপড়ে ফেলতে এলেন খোদ বিমল গুরুং। পাহাড়ে বিজেপির জোটসঙ্গী গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাই। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে বিজেপিকে জেতাতে আদি নেতার বাড়ি গিয়ে মান ভাঙানোর চেষ্টা গুরুংয়ের। রবিবার আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় আপাত 'নিষ্ক্রিয়' হয়ে বসে থাকা বিজেপি নেতা রাহুল লোহারের বাড়ি গেলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাদারিহাটের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মন লিম্বুও ও অন্যান্যরা ছিলেন। এদিন দীর্ঘক্ষন রাহুল লোহারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিমল গুরুং (Bimal Gurung)। দার্জিলিংয়ের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার সঙ্গে কথা বলে রাহুল লোহার জানালেন, সবাই মিলে লক্ষ্মণ লিম্বুকে জেতানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করবেন।
এবার মাদারিহাটে বিজেপির প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বু। অভিযোগ ওঠে, বিমল গুরুংয়ের কথাতেই বিজেপি লক্ষ্মণকে প্রার্থী করেছে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ রাহুল লোহার এখনও বিজেপির হয়ে প্রচারে নামেননি বলেও গুঞ্জন শুরু হয়। এসবের জেরে রাহুলের মান ভাঙিয়ে প্রচারে নামাতে আসরে খোদ বিমল গুরুং।
মাদারিহাটে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির মনোজ টিগ্গা। কিন্তু ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে তিনি জিতে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ হন। টিগ্গার ওই আসনে উপনির্বাচন হয়। তখন প্রার্থী করা হয় চা-বলয়ের বিতর্কিত নেতা তারকেশ্বর লোহারের ছেলে রাহুল লোহারকে। কিন্তু উপনির্বাচনে হেরে যান রাহুল। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কিছুদিন পর আবার বিজেপিতে ফিরে আসেন। সেই রাহুলকে এবার আর মাদারিহাটে প্রার্থী করেনি বিজেপি। এবার মাদারিহাটে বিজেপির প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বু। অভিযোগ ওঠে, বিমল গুরুংয়ের () কথাতেই বিজেপি লক্ষ্মণকে প্রার্থী করেছে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ রাহুল লোহার এখনও বিজেপির হয়ে প্রচারে নামেননি বলেও গুঞ্জন শুরু হয়। এসবের জেরে রাহুলের মান ভাঙিয়ে প্রচারে নামাতে আসরে খোদ বিমল গুরুং।
বৈঠক শেষে বিমল গুরুং বলেন, “এবার সরকারে আসবে বিজেপি সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। এই উন্নয়নে আমরা সবাই শামিল হতে পারব। গত উপনির্বাচনে মাদারিহাটে কেন বিজেপি হেরেছিল, তার সবটাই আমরা জানি। এবার আমরা কী রণনীতি নিয়েছি, তা আমাদের মনে আছে।'' রাহুল লোহারের কথায়, “লক্ষ্মণ লিম্বুকে দল প্রার্থী করানোর পরেই তাঁকে আমি অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। এদিন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা আমার বাড়িতে এসেছেন। অনেক কথাবার্তা হলো। আমরা সবাই মিলে লক্ষ্মণ লিম্বুকে জেতানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করব।”
