ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত বরানগর (Baranagar)। একদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে প্রার্থী সজল ঘোষের থানা ঘেরাও, অন্যদিকে বিজেপিরই ‘কার্যকর্তা’কে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল তাঁরই ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বরানগর এলাকার 'আদি' বিজেপি কর্মী রাজীব মিশ্রকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন 'নব্য' বিজেপি কর্মীরা! সোমবার রাত থেকে ধারাবাহিক এসব অশান্তির ঘটনায় শোরগোল পড়েছে বরানগর এলাকায়। বিজেপির দলীয় কোন্দল নিয়ে পালটা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগে সোমবার রাতে বরানগর (Baranagar) থানা ঘেরাও করেন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। থানার সামনে দাঁড়িয়ে সরব হন বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ, ঠিক এই আবহেই বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডে সজল ঘোষের কার্যালয়ের সামনেই আক্রান্ত হন রাজীব মিশ্র। বরানগর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজীব বিজেপির পুরনো কার্যকর্তা বলে পরিচিত। এদিন প্রকাশ্যে রাস্তায় তাড়া করে তাঁকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তাঁরই দলের নতুন কর্মীরা।
সংবাদমাধ্যমে রাজীব মিশ্র অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) বারবার বলেন, তিনি জিতলে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হবেন। আমি ওঁর প্রচারে যাইনি। এদিন গেছিলাম গোপাল লাল ঠাকুর রোডের কার্যালয়ে। কিন্তু গিয়ে দেখি ঝামেলা হচ্ছে। আমি বলি, রাস্তায় নয়, যা হবে ভিতরে হোক।’’ আক্রান্ত ওই বিজেপি কার্যকর্তার অভিযোগ, ‘‘আমাকে দেখেই ওরা বলে, একে আজ মেরেই ফেলব। তারপর রাস্তায় তাড়া করে মারে। হেমন্ত সাউ, কিরণ দাস আরও অনেকে মিলে মারধর করে।’’ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত সকলেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী বলেই পরিচিত।
যদিও ভোট (West Bengal Assembly Election) আসার অনেক আগে থেকেই বারবার উত্তপ্ত হচ্ছে বরানগর। ২০২৪ সালের উপনির্বাচন পেরিয়ে ফের দুই যুযুধান দলের প্রার্থী হয়েছেন একই ব্যক্তি - তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির সজল ঘোষ। এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছে বামফ্রন্ট। সিপিএমের হয়ে লড়াইয়ে এবার সায়নদীপ মিত্র। তৃণমূল এবং বিজেপি বিভিন্ন ইস্যুতে একে অন্যকে জায়গা ছাড়তে নারাজ! ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসার অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধেও। পালটা সরব হচ্ছেন সায়ন্তিকা ঘনিষ্ঠরাও। এই আবহেই সোমবার রাতে বরানগর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান সজল ঘোষ। অভিযোগ করেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিজের দলের কর্মীর এমন বিস্ফোরক অভিযোগে ফের শোরগোল পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির নিজের ঘরের কোন্দল নিয়েই।
