কেলেঘাই নদী সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে দলীয় পতাকা হাতে নদীতে সাঁতার কাটলেন দুই বিজেপি নেতা। নদীর পাড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরতি সারলেন বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতি। ছাব্বিশে নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী তপন মাইতি। ভোটের আগে থেকেই কেলেঘাই নদীকে ঘিরে মানুষের ক্ষোভ স্পষ্ট। বন্যা আর ভাঙনের সমস্যা বাড়ছে। সেই কারণেই এবার নির্বাচনে এই নদী বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাই শুরু থেকেই এই ইস্যুকে সামনে এনে প্রচার শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী।
ভোট (West Bengal Assembly Election) প্রচারে বেরিয়ে কেলেঘাই নদী সংস্কারকেই প্রধান ইস্যু করেছেন তপন মাইতি। নদীর পাড়ে ঘুরে ঘুরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমস্যা শোনেন। নদী ভাঙন, বন্যা আর চাষের ক্ষতি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বাসিন্দারা। কৃষকদের দাবি, প্রতি বছর জল ঢুকে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় স্থায়ী সমাধান চায় কেলেঘাই তীরবর্তী বাসিন্দারা। সেই দাবিকেই সামনে রেখে প্রচারে জোর দিলেন বিজেপি প্রার্থী।
নদীতীরের বাসিন্দাদের আস্থা অর্জনে প্রচারে চমক নিয়ে আসে বিজেপি । কেলেঘাই নদীর পাড়ে সিঙলাই মোড়ের কাছে স্লুইস গেট ধারে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করেন বিজেপি প্রার্থী। এই সময় বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সুকান্ত প্রধান এবং মোহনলাল শী দলীয় পতাকা হাতে নদীতে সাঁতার কাটেন। নদীর জলে দলীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করেন কেলেঘাই সংস্কারের। মহিলারাও অংশ নেন এই কর্মসূচিতে। শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন মহিলারা।
পটাশপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ১৫ বছরেও এই নদীর সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। প্রতি বছর বন্যায় গ্রামের পর ডুবে যায়। কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পটাশপুরের গণদেবতা আমাকে জয়ী করলে আমার প্রথম কাজ হবে কেলেঘাই নদী সংস্কার। নদী সংস্কারে আমি আন্দোলন চালিয়ে যাব।" বিজেপি প্রার্থীর এই চমকপ্রদ প্রচার দেখে কেলেঘাই তীরবর্তী বাসিন্দারা কিছুটা বিস্মিত হলেন এর প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে সেটাই এখন দেখার।
