উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। বুধবার আলিপুরদুয়ারের সোনাপুরে জনসভা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। অথচ আলিপুরদুয়ারের নামই ভুলে গেলেন তিনি। জায়গার নাম বলতে গিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়েই হোঁচট খেলেন কমপক্ষে দু'বার। সেই ভিডিও শেয়ার করে খোঁচা তৃণমূলের।
অফিসিয়াল X হ্যান্ডেলে শেয়ার করা নীতীন নবীনের ভিডিওতে শোনা গিয়েছে আলিপুরদুয়ারের নাম বলতে গিয়ে ঠিক কতটা সমস্যায় পড়েন তিনি। বলেন, "ক্যায়া নাম হ্যায় ভাইয়া ইয়াহ পার? আলিপুর? (কিছুটা থমকে) দুয়ার?" এই ভিডিও শেয়ার করে শাসক শিবির লেখে, "এই হল বাংলা বিরোধী বহিরাগত যাদের বাংলার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। বাংলাকে একটুকুও সম্মান করে না। বাংলাকে নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। যাদের কাছ থেকে ভোট চাইতে আসছেন, সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থানও তাঁদের অজানা। তারা আসে বাংলার মাটিকে বিদ্রুপ করে, আমাদের জেলার নাম ভুল বলে। বাংলার মা-মাটি-মানুষকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জানেনই না কোথায় প্রচার করছেন, স্থানীয় বিজেপি নেতারা আপনার জন্য কিছু করবে বিশ্বাস করেন? বাংলার মানুষ ঔদ্ধত্য এবং অবহেলা সহ্যের সীমা পার করে ফেলেছেন।"
উল্লেখ্য, বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছে নাম বিভ্রাটের অভিযোগ ওঠে। সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথের অনুষ্ঠানে মাতঙ্গিনী হাজরা হয়েছিলেন ‘মাতাগিনী’। তার ফলে একাধিকবার পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে মনীষীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছে। আবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিয়ে নাম গুলিয়ে ফেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে নিশিকান্ত প্রামাণিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের পদবি উচ্চারণ করেন ‘বমন’ বলে। রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে মসকরার শেষ নেই। আবার অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় শ্রীরামপুর হয়েছিল 'শ্রীরীমপুর'। আর এবার খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ভুলে গেলেন আলিপুরদুয়ারের নাম। যা নিয়ে নানা মহলে চলছে জোর কাটাছেঁড়া।
