একুশের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় তারকামুখ কম হলেও প্রচারের পিচে গ্ল্যামারেই বাজিমাত জোড়াফুল শিবিরের। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) প্রাক্কালে আচমকাই পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের (Parambrata Chattopadhyay) প্রার্থী হওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই জল্পনা ধূলিস্যাৎ হলেও এবার তৃণমূলের হয়ে প্রচার মঞ্চে পা রেখে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করলেন পরিচালক-অভিনেতা। শনিবার কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের হয়ে প্রচার করেন পরমব্রত। সেখানেই একযোগে বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে বিরোধী পদ্মশিবিরকে বিঁধে তারকার সাফ কথা, 'ছাব্বিশের ভোট বাঙালির আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।'
প্রথম দফার পর এবার 'পাখির চোখ' ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিকে। হাতে আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা। ব্যালটে ভাগ্য নির্ধারণের প্রাক্কালে শেষবেলার প্রচারে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন প্রার্থীরা। খাওয়া-নাওয়া ভুলে আমজনতার দুয়ারে দুয়ারে জনসংযোগ সারছেন প্রার্থীরা। এবার তৃণমূলের প্রচারে শামিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শনিবার, ২৫ এপ্রিল নদিয়ার কৃষ্ণনগরের চক দিকনগর হাইস্কুলের মাঠে যেন চাঁদের হাঁট বসেছিল। তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়া এবং অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই রাজ্যের নারীসুরক্ষা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে মণিপুরের কথা মনে করিয়ে দেন জুন মালিয়া। এরপরই ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থ তথা নেত্রী-অভিনেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে শোনা যায় পরমব্রতকে।
"কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পুণ্যভূমি থেকে আজকে এই প্রথম আমার রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হল ব্যক্তিগতভাবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোট নয়। এই নির্বাচন বাংলার ও বাঙালির আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ে প্রত্যেকটা বাঙালির শামিল হওয়া দরকার।..."
কৃষ্ণনগরে এদিন সংশ্লিষ্ট জনসভার অন্যতম আকর্ষণ যে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন, তা হলফ করে বলাই যায়। কারণ এর আগে কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি কোনও দলের হয়ে বিরোধী দলকে বিঁধতে দেখা যায়নি অভিনেতা-পরিচালককে। তবে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী না হলেও তৃণমূলের প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'বাংলা বিরোধী' বিজেপিকে বিঁধতে শোনা যায় তাঁকে। পরমব্রত সাফ বলেন, "কৃষ্ণনগর দক্ষিণের এই পুণ্যভূমি থেকে আজকে এই প্রথম আমার রাজনৈতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হল ব্যক্তিগতভাবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোট নয়। এই নির্বাচন বাংলার ও বাঙালির আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ে প্রত্যেকটা বাঙালির শামিল হওয়া দরকার। সেসব রাজ্য, যেখানে একের পর এক নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটে, মহিলাদের অপমান করার ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে বাইরের লোক এসে এই পশ্চিমবঙ্গে, যেটা এবছরও মহিলাদের জন্য নিরাপদ রাজ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেই রাজ্যে এসে মহিলাদের সুরক্ষার কথা শুনিয়ে যাবেন, মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে জ্ঞান দিয়ে যাবেন, আর আমরা সেটা চুপচাপ শুনে নেব, এটা হতে পারে না! সেই জন্যই বলছি এই বছরের নির্বাচন বাংলা এবং বাঙালির আত্মসম্মানের ও আত্মমর্যাদার লড়াই।"
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
এখানেই অবশ্য শেষ নয়! নির্বাচনের প্রাক্কালে এসআইআর গেরোয় বাংলাবাসীর ভোগান্তির কথাও মনে করিয়ে দেন পরমব্রত। অভিনেতা বলেন, "যেভাবে এসআইআর-এর নাম করে বৈধ ভোটারদের নাকাল করা হয়েছে, যে পরিমাণ লোক বাদ দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও এটা জবাব দেওয়ার লড়াই।" উল্লেখ্য, এদিন চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জেবের শেখের হয়েও প্রচার করেন জুন মালিয়া এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ইনসাট ক্লাবের মাঠ থেকে শুরু হওয়া রোড শোয়ে তারকা প্রচারকদের দেখতে জনপ্লাবনের সৃষ্টি হয়েছিল, বললেও অত্যুক্তি হয় না। তবে তৃণমূলের প্রচারমঞ্চে উপস্থিত থাকায় পরমব্রতকে নিয়ে চর্চারও অন্ত নেই। কটাক্ষের শিকারও হতে হচ্ছে।
