আমিষ খাবার বিতর্কে বারবার নাম জড়িয়েছে বিজেপির। তৃণমূলের অভিযোগ, বাঙালির খাদ্যভাস বদলানোর চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। সে কারণেই মাছ, মাংস খাওয়ারও বিরোধিতা করছে বিজেপি। যদিও ভোটমুখী বাংলায় সে অভিযোগ খণ্ডনে ব্যস্ত পদ্মশিবির। এমনকী ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের মাছ হাতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচারের ফাঁকে খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মাছবাজারে ঢুঁ মারতে দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষকেও। এবার হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মোদির মুখেও মৎস্য আখ্যান! 'মাছে ভাতে বাঙালি'র মন পেতে মাছের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যকে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাও আবার কিনা পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়েই।
প্রথম দফার নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) বাকি আর কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোট রয়েছে বাংলায়। ভোটের আগে আজ বৃহস্পতিবার হলদিয়ায় নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সভা থেকেই সুকৌশলে মাছের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান তিনি। খতিয়ান তুলে ধরে মোদি বলেন, ''এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখানে মাছের উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। অন্য রাজ্যের থেকে আমদানি করতে হয়।'' এই প্রসঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মৎস্য উৎপাদন এখন বাড়ছে। বিহারে মৎস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের জন্য বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ নরেন্দ্র মোদি। যদিও এর পালটা জবাব দিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনাখার প্রচার সভা থেকে তিনি বলেন, ''মৎস্য উৎপাদনে বাংলা স্বাবলম্বী। এখন আর অন্ধ্র থেকে মাছ আনতে হয় না।'' এমনকী বাংলাতেই যে ইলিশের চাষ হচ্ছে তাও তুলে ধরেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
খতিয়ান তুলে ধরে মোদি বলেন, ''এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখানে মাছের উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। অন্য রাজ্যের থেকে আমদানি করতে হয়।'' এই প্রসঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মৎস্য উৎপাদন এখন বাড়ছে। বিহারে মৎস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের জন্য বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ নরেন্দ্র মোদি।
অন্যদিকে এদিন কেন্দ্রের স্কিমগুলোর সুবিধা তৃণমূলকে পেতে দিচ্ছে না বলেও সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের জন্য পিএম মৎস্য সম্পদের লাভ পাননা বঙ্গের মৎস্যজীবীরা। উলটে স্কিমের নাম বদলাতে ব্যস্ত রাজ্য সরকার। তবে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের সমস্ত স্কিম বাংলার মানুষ পাবেন বলে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।
প্রবাদেই আছে মাছে-ভাতে বাঙালি! ক্ষমতায় এলে নাকি সেই বাংলাতেই মাছ-মাংস বন্ধ করে দেবে বিজেপি। যা নিয়ে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল। এমনকী কখনও তৃণমূল সুপ্রিমো কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বক্তব্যেও এই বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। উদাহরণ হিসাবে অনেক ক্ষেত্রেই বিহার কিংবা উত্তরপ্রদেশের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। এমনকী বাংলার কিছু নেতার বক্তব্যকেও হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছে শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে পালটা চাল বিজেপির। মাছ নিয়ে বিতর্কে পালটা প্রচার শুরু করেছেন বঙ্গ বিজেপির প্রার্থীরা। এবার মোদির মুখেও মাছের কথা। তাও আবার কিনা পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিকমহলের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরে বহু মৎস্যজীবীর বাস। দিঘা, শঙ্করপুরে বহু মাছ উৎপাদন হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি যে মৎস্যবিমুখ নয় তাই তুলে ধরার চেষ্টা প্রধানমন্ত্রী করলেন বলে মত ওয়াকিবহালমহলের।
