ভোটের ফলপ্রকাশের পর মঙ্গলবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ছাব্বিশের নির্বাচনে ৮০ তে এসে ঠেকেছে তৃণমূলের দখলে থাকা আসন সংখ্যা। হবু বিধায়কদের শপথগ্রহণের আগেই আজ তৃণমূল দলনেত্রীর ডাকে বৈঠকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিন কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন অন্তত ৯ জয়ী প্রার্থী! তা নিয়েই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
এদিনের বৈঠকে দলের 'দুঃসময়ে' সকলকে আরও একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী। দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে থেকে উঠে আসা 'অন্তর্ঘাত' প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, "যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে তাদের নাম দিন।" দল যে ভিতর থেকে ভাঙছে, তার বোধহয় প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন মমতা। দলে ভাঙনের আশঙ্কা মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এদিকে বুধবার দলনেত্রীর ডাক এড়িয়ে বৈঠকে গরহাজির ছিলেন ৯ জয়ী প্রার্থী। সূত্রের খবর, তৃণমূলের হবু বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার সাফাইও দেন মমতা। তিনি বলেন, 'ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। দিকে দিকে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকার কারনেই তাঁরা বৈঠকে অনুপস্থিত।'
অন্যদিকে এদিন বৈঠক চলাকালীনই কলকাতা বন্দরের জয়ী প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের কনভয়ের গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ববি হাকিমের কনভয়ের এই গাড়ি দিয়েছিল ডাইরেক্টর সিকিউরিটি। সেই গাড়িগুলিই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এতদিন ফিরহাদ হাকিম পুরো ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং মেয়র হিসেবে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। মোট ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী ও ২ জন পিএসও। তবে এখন তিনি মন্ত্রী থাকবেন না, তাই নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে থাকা দুটি গাড়িও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এদিন।
