রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসগ্রহণের প্রয়োজন হল না। উলটে পাহাড়ে বিজেপির ঝুলিতে চারটি আসন তুলে দিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং 'কিং মেকার'-এর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখলেন। প্রমাণ করলেন, সুবাস ঘিসিংয়ের পর তিনিই গোর্খা অধ্যুষিত এলাকায় শেষ কথা। সোমবার গণনার ফলাফল সামনে আসতে দার্জিলিং পাহাড়ের উৎসবের আবহ তৈরি হয়। রাস্তায় নামেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কর্মীরা।
সিংমারিতে দলীয় কার্যালয়ে বসে গুরুং অবশ্য নিজেকে 'কিং মেকার' ভাবতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "আমি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি না। অন্যদের জন্য ভোট প্রার্থনা করি মাত্র।" আরও দাবি করেন, রাজ্যে বেড়ে চলা বেকারি, উচ্ছন্নে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থা, তৃণমূল সরকারের চাকরি চুরি, লাগামহীন দুর্নীতি, স্বজনপোষণ মানুষ ভালভাবে নেয়নি। এবার ইভিএম মেশিনে সেটারই জবাব দিয়েছে। বিমল গুরুং নিজে প্রার্থী না-হলেও দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও ডুয়ার্সের বীরপাড়া-মাদারিহাট আসন তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বের নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছিল। গুরুং নিজেও সেটা অনুভব করছেন। হয়তো তাই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ভোলেননি, আসনগুলোতে জিততে না পারলে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেবেন। সেটা নিয়ে বিস্তর হাসি, মসকারা হয়েছে। কিন্তু শেষ হাসি তিনিই হাসলেন।
এর আগে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসনে গেরুয়া শিবিরে প্রার্থী নিয়ে চাপানউতোরের কথা কে না জানে! অবশেষে রাজু বিস্তার কপালে শিকে ছেঁড়া এবং তাঁর জয়লাভ। সবকিছুর নেপথ্যে ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো।
এর আগে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসনে গেরুয়া শিবিরে প্রার্থী নিয়ে চাপানউতোরের কথা কে না জানে! অবশেষে রাজু বিস্তার কপালে শিকে ছেঁড়া এবং তাঁর জয়লাভ। সবকিছুর নেপথ্যে ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো। সেই বিমল গুরুং এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদান হিসেবে শুধু দার্জিলিং আসন জিএনএলএফের হাত থেকে ছিনিয়ে নেননি। ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট আসনেও নিজের পছন্দের এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করাতে বাধ্য করেন গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বকে। দার্জিলিং আসনে নোমান রাই, কার্শিয়াং আসনে সোনম লামা, কালিম্পং আসনে প্রাক্তন ভারতীয় হকি খেলোয়াড় অলিম্পিয়াড ভরত ছেত্রী, মাদারিহাট আসনে লক্ষ্মণ লিম্বুকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব নেন গুরুং। ঠিক একইভাবে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জিতিয়ে বাজিমাত করেছিলেন গুরুং। এবারও বিধানসভায় বিজেপিকে চারটি আসন জিতিয়ে প্রমাণ করলেন সুবাস ঘিসিংয়ের পর তিনিই গোর্খা অধ্যুষিত এলাকায় শেষ কথা।
