দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ফের পরিবর্তন। প্রবল গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত ঘাসফুল। এরপরেই তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিবেক গুপ্ত। জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক তিনি। ফলাফল স্পষ্ট হতেই সোমবার রাতে বিবেক তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। যেখানে হারের দায় নিয়ে দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা লেখেন তৃণমূল নেতা। শুধু তাই নয়, দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও লিখছেন তিনি।
বলে রাখা প্রয়োজন, এবার জোড়াসাঁকো বিধানসভা থেকে টিকিট দেওয়া হয়নি বিবেক গুপ্তকে। ওই কেন্দ্র থেকে ২৬ এর নির্বাচনে বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু জয় আসেনি। জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন বিজেপির বিজয় ওঝা। পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। এরপরেই হারের দায় মাথায় নিয়ে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা। বিবেক গুপ্তা লিখছেন, 'ভোটে এহেন ফলাফলের দায় সম্পূর্ণ আমার। একজন নেতা হিসাবে এই ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছে। তাই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।'
বিবেক গুপ্তা লিখছেন, 'ভোটে এহেন ফলাফলের দায় সম্পূর্ণ আমাদা। একজন নেতা হিসাবে এই ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছে। তাই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।'
শুধু তাই নয়, জোড়াসাঁকো মানুষের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমেই একটি বার্তা দিয়েছেন বিবেক। যেখানে তিনি লিখছেন, 'জোড়াসাঁকোর মানুষ নিজেদের মতামত স্পষ্ট জানিয়েছেন। পাঁচ বছরের জন্য বিজয় ওঝাকে জোড়াসাঁকোর জন্য বেছে নিয়েছেন মানুষ। আশা করি উনি ভালোভাবে কাজ করবেন।''
উল্লেখ্য, জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্বে ছিলেন বিবেক গুপ্তা। চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু হিন্দিভাষী এলাকায় এবার তৃণমূলের ফলাফল মোটেই সন্তোষজনক নয়। এমনকী শহরের হিন্দিভাষীরাও এবার শাসকদলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যার ফলে একাধিক কেন্দ্রে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে শাসকদলকে। ফলত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রাক্তন বিধায়কের এহেন পোস্ট খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
