ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তিনি। তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গান চালানোর অভিযোগে এবার আইনের দ্বারস্থ হতে চলেছেন শওকত মোল্লা। খুব শীঘ্রই তিনি এই নিয়ে মামলাও করবেন। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় শওকতকে নিয়ে একটি কুরুচিপূর্ণ গান ভাইরাল হয়। যে গানে শওকত মোল্লাকে 'মাছ চোর' হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই এই গান রাজ্য রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তবে গান কে বানাল, কোথা থেকে উৎপত্তি হল এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
শওকত বলেন, "রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিক ময়দানে হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে রাজনৈতিকভাবে জয়ী হওয়া যায় না। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হব।”
বিষয়টি সোশাল মিডিয়ায় বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি দলীয় কর্মীদের কাছে এই গান না চালানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! চটুল এই গান এখন চারদিকেই বাজছে। এনিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বললেন শওকত। এই গান ভাইরাল করার পিছনে তৃণমূলের একাংশ এবং আইএসএফকেই দায়ী করে শওকত বলেন, "রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিক ময়দানে হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে রাজনৈতিকভাবে জয়ী হওয়া যায় না। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হব।”
প্রসঙ্গত, ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেসের বিতর্কিত নেতা কাইজার আহমেদ শওকত মোল্লাকে একটি টিভি চ্যানেলের ইন্টারভিউতে 'মাছ চোর' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তারপর ভোটপ্রচারের একেবারে শেষলগ্ন থেকে ‘মাছ চোর, মাছ চোর, শওকত তো মাছ চোর’ গানটি ভাইরাল হয়। ক্যানিংয়ের মৌখালির বাসিন্দা শওকত রাজনীতিতে আসার আগে মাছচাষ এবং মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেকথার উল্লেখও রয়েছে গানটিতে। জনপ্রিয়তার গ্রাফ ক্রমশ আকাশচুম্বী। আর তা যে শওকত মোল্লার অস্বস্তি বাড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটের সময় নির্দিষ্ট একটি প্রার্থীকে নিয়ে আদৌ এমন গান কি বাঁধা যায়, তা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আপাতত এই গান যে ভোটের মতো গুরুগম্ভীর বিষয়ে অন্য মাত্রা যোগ করেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
