বিজেপির প্রচার সামগ্রী গোছাতে ব্যস্ত পানিহাটির এক ‘সেক্টর অফিসার’। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি ঘরের ভিতরে বসে কয়েকজন ব্যক্তি বিজেপির প্রচার সামগ্রী গোছানোর কাজে ব্যস্ত। মেঝেতে বসে বিজেপির পতাকা বাঁধার কাজ করছেন তিনজন। তাঁদের সামনে স্তূপ করে রাখা পোস্টার বা লিফলেট, চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিজেপির পতাকা। ঘরোয়া পরিবেশে চলা এই প্রস্তুতির মাঝেই নির্বাচনী প্রচার সংক্রান্ত কথোপকথনও শোনা যায়।
শুক্রবার রাতে ভিডিওটি পোস্ট করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, সেখানে থাকা এক ব্যক্তি কি নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পানিহাটির সেক্টর অফিসার? তাঁর দাবি, একটি সূত্র এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিয়োটি। এরপরই সামনে আসে ওই ব্যক্তির পরিচয়। জানা গিয়েছে, ভিডিয়োয় কালো গেঞ্জি পরা ব্যক্তি অতনু চক্রবর্তী, যিনি পানিহাটির সেক্টর অফিসার হিসেবে নিযুক্ত। তাঁর বাড়ি আগরপাড়া নর্থ স্টেশন রোড এলাকায়। পেশায় তিনি শিক্ষক, বারাসত চৌধুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিক কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারের কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।
সরব হয়ে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশন গোটা বাংলায় নিরপেক্ষভাবে ভোট করাতে চায় না। পানিহাটির সেক্টর অফিসারের এই ভিডিওই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। এরকম আরও ঘটনা রয়েছে, সেগুলিও ধীরে ধীরে সামনে আসবে।” যদিও ফোনে অতনু চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “৩০ এপ্রিল একটি সার্কুলার বেরিয়েছে। যে ভিডিওটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেটি ২৭ এপ্রিলের। এখন সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে। বর্তমানে আমার উপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করছি। দায়িত্বের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ৩০ তারিখের পর আমি কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপেও অংশ নিইনি।”
