নির্বাচনের মনোনয়নের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠল সাগরদিঘি বিধানসভার বামজোটের প্রার্থী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নিজের হলফনামায় তিনি নিজের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে গিয়েছেন। নির্বাচনী হলফনামায় নিজেকে এসডিপিআই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে মশিউর লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সাগরদিঘি থানায় চারটি মামলা রুজু রয়েছে। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চারটি মামলা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি এসডিপিআই দলের প্রার্থী মশিউর রহমান । সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এসডিপিআই পার্টিতে যোগদান করেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে মশিউরকে প্রার্থী করে এসডিপিআই। তাঁকে সমর্থন করছে বাম এবং আইএসএফ। সিপিএম এবার তাদের নিজের আসন জোটসঙ্গী এসডিপিআইকে ছেড়ে দিয়েছে। মশিউরের নির্বাচনী প্রতীক হল আইএসএফের খাম চিহ্ন। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রয়েছে বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীকে।
সাগরদিঘিতে বাম মহাজোটের প্রার্থী মশিউর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির চেয়ারে বসেই সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মহিলা সদস্যাকে জাত তুলে গালিগালাজ করা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন মশিউর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বামজোটের প্রার্থী মশিউরের নামে সাগরদিঘি থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। অথচ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি মাত্র চারটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের ৩১ শে জানুয়ারি সাগরদিঘি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার কোনও উল্লেখই নেই হলফনামায়। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ ইতিমধ্যেই তুলেছে শাসক শিবির। গোটা ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যার ফলে তথ্য গোপনের অভিযোগে মশিউরের প্রার্থী পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। নির্বাচনে সামশেরগঞ্জ বিধানসভার বাম জোটের আইএসএফের প্রার্থীর মনোনয়ন ইতিমধ্যে এুটির কারণে বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সাগরদিঘির বামেদের মহাজোটের প্রার্থী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রার্থী পদ নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে নির্বাচনী হলফনামায় কোনও প্রার্থী তাঁর অতীতের কোনও অপরাধমূলক মামলার তথ্য গোপন করে মনোনয়ন পত্র জমা দিলে কমিশন সেই প্রার্থীর নির্বাচনে লড়ার ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে। মশিউর ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তথ্য গোপন করায় কমিশন কড়া মনোভাব নিয়ে চললে মশিউরের প্রার্থী পদ বাতিল হতে পারে।
মশিউরের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী , তাঁকে অভিযুক্ত করে সাগরদিঘি থানায় ২০১৫ সালে ৩ টি এবং ২০২৫ সালে একটি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি-উপজাতি সংরক্ষণ আইনে এফআইআর হওয়া ছাড়াও,অবৈধভাবে কাউকে আটকে রাখা, গুরুতর আঘাত করা ,অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ আরও বহু ধারায় সাগরদিঘি থানায় এফআইআর রুজু রয়েছে। এই বছর ৩১ জানুয়ারি মশিউরের বিরুদ্ধে সাগরদিঘি থানায় মোটর ভেহিকল আইনের ১৯০(২) এবং ৩৯ ধারায় এবং বিএনএস-এর ৩(৫),৩১৮(৪), ৩৩৬(২),৩৩৬(৩),৩৩৮, ৩৪০(২) এবং ৩৪১(১) ধারায় আরও একটি এফআইআর রুজু হয়েছে। যদিও মশিউর নিজের নির্বাচনী হলফনামায় এই তথ্য বেমালুম চেপে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।
সাগরদিঘি থানার সূত্রে জানা গিয়েছে , গত ৩১ জানুয়ারি মশিউরের বিরুদ্ধে ৪৮/২৬ কেস নম্বর দিয়ে মামলাটি চালু হয়েছে। এই মামলার কোনও উল্লেখ মশিউরের নির্বাচনী হলফনামায় নেই। রাজনৈতিক মহলের অভিমত , সাগরদিঘিতে এবার লড়াই ছিল মূলত তৃণমূল বনাম বাম-আইএসএফ ও এসডিপিআইয়ের মহাজোটের। তবে তথ্য গোপনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ালে মশিউরের প্রার্থীপদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।যদিও তথ্য গোপনের এই অভিযোগ নিয়ে মশিউরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,"ওটা নিয়ে সমস্যা হবে না, ওটা 'ক্লিয়ার' হয়ে গিয়েছে।"
