প্রয়াত বিধায়ক তথা পুরপ্রধান কেপি সিং দেওর ছেলেকে পুরুলিয়া থেকে বিধানসভা ভোটের প্রার্থী করতে হবে। শাসকদলের প্রয়াত নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ্যে কেপি সিং দেওর পুত্র দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেওকে প্রার্থী করতে জোরালো দাবি তুলে বিতর্কে জড়ালেন পুরুলিয়ার পুরপ্রধানের কুরসি হারানো তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি।
কেপি সিং দেওর মুত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নবেন্দু মাহালির। নিজস্ব ছবি
একেবারে প্রকাশ্যে এভাবে প্রার্থীর দাবি তুলে দেওয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি আগেও বলেছিলাম দলীয় প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনও কিছু বলবেন না। কোনও মিটিং করবেন না। প্রার্থীর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের ঊর্ধ্বতনের। এরপরেও যাঁরা যাঁরা এ কাজ করে চলেছেন, তা দলে রিপোর্ট হচ্ছে। তাই সাবধান, সতর্ক হয়ে যান। ভোটে কেউ কোনও অন্তর্ঘাত করলে দল কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে।"
এনিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি আগেও বলেছিলাম দলীয় প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনও কিছু বলবেন না। কোনও মিটিং করবেন না। প্রার্থীর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের ঊর্ধ্বতনের। এরপরেও যাঁরা যাঁরা এ কাজ করে চলেছেন, তা দলে রিপোর্ট হচ্ছে। তাই সাবধান, সতর্ক হয়ে যান। ভোটে কেউ কোনও অন্তর্ঘাত করলে দল কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে।"
২০২১ সালের বিধানসভা। সেই সঙ্গে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া পুরসভার কুরসি হারানো কাউন্সিলররা অন্তর্ঘাত করে দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরও যদি প্রাক্তন কাউন্সিলররা শিক্ষা না নেন তাহলে যে ভোটের পরে শাস্তির খাঁড়া ঝুলছে, তা কার্যত জানিয়ে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি। নতুন জেলা কমিটি গঠন হওয়ার পর শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠক থেকেও পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল এই কড়া বার্তা দেবে বলে খবর।
একুশের বিধানসভায় পুরুলিয়া আসন ছাড়াও বান্দোয়ান বিধানসভায় আসনে অন্তর্ঘাত হয়। অভিযোগ, দলীয় প্রার্থীর নাম দেওয়ালে লিখতে দেয়নি বান্দোয়ান ব্লক তৃণমূল। ফলে এসব পুনরাবৃত্তি যাতে আর কোনওভাবে না হয় জেলা সভাপতির বক্তব্য থেকে তা স্পষ্ট। সম্প্রতি পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লক নেতৃত্ব একটি বৈঠক করে দাবি করেছিল, পুরুলিয়া বিধানসভার প্রার্থী পুরুলিয়া ২ ব্লক থেকে করতে হবে। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তারপর দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি প্রার্থী নিয়ে যেভাবে দাবি তুললেন, তা রীতিমতো ভাইরাল।
বিজেপি এই বিষয়টিকে ইস্যু করায় পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল একেবারে হালকাভাবে নেয়নি। প্রয়াত বিধায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে নবেন্দু মাহালি বলেছেন, "২০১৬ সালে কেপি সিং দেওর পুত্র দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেও প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি কেন হারলেন, তার 'পোস্টমর্টেম' যদি তখন হতো তাহলে ২০২১ ও ২৪-র পুনরাবৃত্তি হতো না। তখন কলহের যে বীজ বপন হয়েছিল তা আজ ছড়িয়ে গিয়েছে।"
