shono
Advertisement

Breaking News

West Bengal Assembly Election

পুরুলিয়ায় ১ লক্ষ পরিযায়ী ভোট কোন দিকে? অঙ্ক কষছে দুই ফুল, হিসাব কংগ্রেসেও

রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পে পুরুলিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের নাম রয়েছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। বাম আমলে এই বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিককে নিজ উদ্যোগে ঘরে ফেরাত সিপিএম। কারণ, পরিযায়ী শ্রমিক তাদের ভোট ব্যাঙ্ক ছিল। পুরুলিয়ার ওই বিপুল পরিযায়ী শ্রমিক এবার কোন ফুলে ভোট দিয়েছেন?
Published By: Suhrid DasPosted: 04:07 PM May 01, 2026Updated: 05:46 PM May 01, 2026

রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পে পুরুলিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের নাম রয়েছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। বাম আমলে এই বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিককে নিজ উদ্যোগে ঘরে ফেরাত সিপিএম। কারণ, পরিযায়ী শ্রমিক তাদের ভোট ব্যাঙ্ক ছিল। পুরুলিয়ার ওই বিপুল পরিযায়ী শ্রমিক এবার কোন ফুলে ভোট দিয়েছেন? নাকি দুই ফুলের লড়াই থেকে সরে এসে অন্যত্র ভোট দান করেছেন- ভোট শেষে এটাই পর্যালোচনা চলছে বনমহলের এই জেলায়।

Advertisement

গত এক বছরে পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু মিছিল দেখেছে এই জেলা। কেউ মারা গিয়েছেন দুর্ঘটনায়। আবার কারও মৃত্যু অস্বাভাবিক। আবার কাউকে খুন করা হয়েছে। কেউ আবার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আবার এই জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে অত্যাচারিত হয়ে ফিরে এসেছেন। তাদের এই কঠিন জীবনে তারা ইভিএমে কাকে বেছে নেন তারই অঙ্ক কষছে তৃণমূল, বিজেপি থেকে কংগ্রেসও।

কারণ, সেই কোভিডের সময় লকডাউন থেকে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে ঘরে ফেরাতে রাজ্য সরকার, পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন, তৃণমূলের পাশাপাশি এই জেলায় বাঘমুণ্ডির প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো যেভাবে কাজ করেছেন তা নজিরবিহীন। ২০২৪ সালের লোকসভায় নেপাল মাহাতো সেই কাজের সুফল ঘরে তুলতে না পারলেও এবার তাঁর বাঘমুণ্ডি বিধানসভায় পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশের ভোট যে তিনি পেয়েছেন তা বলছে কংগ্রেস। তেমনই বিজেপি রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে ঘরে ফেরাতে যে উদ্যোগ নেয়, সেই ছবি ছিল পুরুলিয়াতেও। 

একেবারে বুথ ভিত্তিক কোথায় কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে তার তালিকা তৈরি করে নিজস্ব নেটওয়ার্কে ওই শ্রমিকদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছে বিজেপি। সব ক্ষেত্রেই ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা যে নিজের খরচে বাড়ি ফিরেছেন তা নয়। ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি তাদেরকে সুশৃঙ্খল ভাবে ঘরে নিয়ে এসেছে।

একেবারে বুথ ভিত্তিক কোথায় কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে তার তালিকা তৈরি করে নিজস্ব নেটওয়ার্কে ওই শ্রমিকদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছে বিজেপি। সব ক্ষেত্রেই ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা যে নিজের খরচে বাড়ি ফিরেছেন তা নয়। ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি তাদেরকে সুশৃঙ্খল ভাবে ঘরে নিয়ে এসেছে। এই কাজে সংশ্লিষ্ট জেলা বা বঙ্গ বিজেপির ভূমিকাই শুধু নয়, ভিন রাজ্যে তাদের নেতৃত্বের ভূমিকাও কম নয়। ফলে এই ভোটের একটা বড় অংশ যে বিজেপির দিকে গিয়েছে তা বলছে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, "রাজ্যে কাজ নেই। পরিবারের কথা মাথায় রেখে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ করছেন। তারা চান নিজের ঘরেই কাজের বন্দোবস্ত। সেজন্যই তারা পদ্মফুলে ভোট দিয়েছেন।"

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা বলরামপুরের প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, "ভিন রাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা অত্যাচারিত। বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের অত্যাচার করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। এমনকী এই জেলার শ্রমিক খুন পর্যন্ত হয়ে গিয়েছেন। এরপরেও কি পরিযায়ী শ্রমিকের ভোট বিজেপি আশা করে? সেই বাম আমল থেকেই কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাওয়া ট্রেন্ড চলছে। পরিযায়ী শ্রমিকের ভোট তৃণমূলে পড়েছে।" পুরুলিয়ার জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, "রাজ্যে কাজ নেই। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য না কেন্দ্র সরকার কোন কাজ করেছে, না রাজ্য সরকার। কোভিডের সময় লকডাউন থেকে এখনও পর্যন্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণে আমি কাজ করে যাচ্ছি। পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগ ভোট কংগ্রেসে পড়েছে।” 

জেলা রাজনৈতিক মহল বলছে, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট দেওয়ার হার অনেক বেশি। কারণ একটাই-এসআইআর আতঙ্ক। এই পরিযায়ী শ্রমিক ও তার পরিবাররা এসআইআরের জন্য এবার যে সমস্যায় পড়েছেন তার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়।

জেলা রাজনৈতিক মহল বলছে, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট দেওয়ার হার অনেক বেশি। কারণ একটাই-এসআইআর আতঙ্ক। এই পরিযায়ী শ্রমিক ও তার পরিবাররা এসআইআরের জন্য এবার যে সমস্যায় পড়েছেন তার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়। সেই কারণেই একেবারে দলে দলে এবার ভোট দেন তারা। আধার, ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভিন রাজ্যে গিয়ে যেভাবে বাংলাদেশি বলে তাদের উপর অত্যাচার নেমে এসেছিল। সেই আতঙ্কে এবার ভোট দান তাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভোটের প্রায় তিন-চারদিন আগে থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা এই জেলায় ট্রেনে, বাসে এমনকি ছোট গাড়ি ভাড়া করে দলে দলে নিজেদের গ্রামে আসেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement