স্কুলের মূল প্রবেশ দ্বার থেকে ক্লাসরুম সেজে উঠেছে আলপনায়। একাধিক দেওয়ালে লেখা হয়েছে সচেতনামূলক বার্তা। বছরের শুরুতেই তো সরস্বতী পুজো গিয়েছে। স্কুলে কি তাহলে কোনও উৎসবের আয়োজন হয়েছে? স্কুলের পড়ুয়ারা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের তুলির টান দিতে। এক ছাত্রী মুচকি হেসে বলে, উৎসবই তো ভোট উৎসব। আগামী কাল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণপর্ব (West Bengal Assembly Election)। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁতেও ভোট রয়েছে। সেই উপলক্ষ্যেই একাধিক রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্কুলের একাধিক ঘর।
আগামী কাল ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোট। আর সেই ভোটকে শুধু গণতন্ত্রের উৎসবের রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তাদের হাতে তৈরি সাজসজ্জায় ভোটকেন্দ্র হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয় ও স্বাগতপূর্ণ। আলপনা, ব্ল্যাক বোর্ডে লেখা বার্তা—সব মিলিয়ে স্কুল চত্বরে ফুটে উঠেছে এক অনন্য আবহ। বাগদার বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ওই স্কুল বাগদা বিধানসভার ১৬১ নম্বর বুথ। কমিশন ওই স্কুল ভোটের জন্য নিয়েছে। প্রস্তুতিও শেষ। সেই আবহে দেখা যায়, স্কুলের পড়ুয়ারা এই ভোট উৎসব আরও স্মরণীয় করতে এগিয়ে আসে।
স্কুলের পড়ুয়ারাই এই আলপনা এঁকেছে। শুধু তাই নয়, ভোট উপলক্ষ্যে বার্তাও দেওয়া হয়েছে। মনীষীদের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে ঘর৷ ভোটার ও ভোটকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে৷ পড়ুয়াদের কথায়, ভোট মানেই এখন হিংসা, হানাহানির অভিযোগ৷ প্রশাসনিক নির্দেশকে উপেক্ষা করেই বহু জায়গায় বুথ দখল ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়৷ সে কারণে ভোটগ্রহণ গণতন্ত্রের উৎসব, তা মানুষের সামনে প্রমাণ করতেই স্কুলকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
স্কুলের সভাপতি কঙ্কন হালদার বলেন, "গণতন্ত্রের উৎসব ভোট। হানাহানি হিংসা ভুলে সকলে যেন উৎসবের আমেজে ভোট দেয়, তার জন্যই স্কুলকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্কুল সাজিয়েছে কচিকাঁচারা। ঘরে ঢুকলেই মনের মধ্যে একটা অন্য উৎসবের আবহ তৈরি হবে।" সোমবার স্কুলে ঢুকে দেখা গিয়েছিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা আলপনা দিচ্ছে বারান্দায়। তারা বলেন, "শান্তিপূর্ণ এক উৎসব আমরা আশা করি। আমরা স্কুল সাজাই সরস্বতীপুজো উপলক্ষে। বাড়ি সাজাই লক্ষ্মীপুজোতে। স্কুলকে সাজালাম ভোট উৎসব উপলক্ষে।"
