রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ প্রাক্তনের সঙ্গে দেখা নিয়ে কবিতা লিখে গিয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ট্রেন জার্নির ফাঁকে মিষ্টি প্রেমের ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে সাহিত্য-সিনেমায়। কিন্তু কামরাটাকেই ফুলশয্যার ঘর বানিয়ে ফেলা! তেমনটা সম্ভবত দেখা যায়নি। এবার সেটাই ঘটে গেল ফার্স্ট ক্লাসের কামরায়। আদৌ ট্রেন নাকি বাড়ির ঘর-ভিডিও দেখে বোঝাই দায়।
ভারতীয় রেল সূত্রে খবর, ফুলশয্যার ঘর সাজানো হয়েছিল নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসে। গত সোমবার ফার্স্ট এসির একটি কুপের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দেখে তো নেটিজেনদের চক্ষু চড়কগাছ! ঢালাও বেলুন, ফুলের মালা, গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো কুপ দেখে কিছুতেই বিশ্বাস হবে না, সেটা আসলে ট্রেনের কামরা। মেঝে একেবারে ছেয়ে রয়েছে গোলাপের পাপড়িতে, দেওয়ালে ঝুলছে রজনীগন্ধার মালা, গোলাপ। বিছানায় টানটান করে পাতা চাদরেও হার্ট শেপে সাজানো গোলাপ, একেবারে ফুলশয্যার মতো করে।
এখানেই শেষ নয়। কামরার ছাদ একেবারে ঢেকে দেওয়া লাল-সাদা বেলুনে। দেওয়ালে সাঁটানো বোর্ড, সেখানে লেখা আই লাভ ইউ। রীতিমতো ডেকরেটর ডেকে এই কুপ সাজানো হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের ওই সংস্থা জানিয়েছে, এক দম্পতির বুকিং ছিল। তাদের দাবি মেনেই সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে কামরা। সাজানোর পরেই কামরায় উঠেছেন যুগল। সাজানো কামরার ভিডিও দেখে নেটিজেনদের প্রশ্ন, এমনটাও হয়? ট্রেনে চেপে ফুলশয্যা-সেটাও ভাবতে পারেন কেউ?
ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশ্ন ওঠে রেলের ভূমিকা নিয়েও। চলন্ত ট্রেনের কামরা এভাবে সাজিয়ে নেওয়ার এক্তিয়ার কি আদৌ আছে যাত্রীদের? প্রশ্ন উঠতেই রেলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা টিটিকে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করেছে রেল। শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। নেটিজেনরা অবশ্য ট্রেনের নাম দিয়ে ফেলেছেন সুহাগরাত এক্সপ্রেস। কেউ বা আবার বলছেন হানিমুন অন হুইলস। তবে কী করে এমনটা ঘটল, ভেবে অবাক অনেকেই।
