গতকাল দেশজুড়ে পালিত হয়েছে কার্গিল বিজয় দিবস। ১৯৯৯ সাল। রীতিমতো পরিকল্পনা করে লাদাখের কারগিল জেলা দখল করেছিল পাকিস্তানি সেনা। এরপরই শুরু হয় লড়াই। যা রূপ নেয় ঐতিহাসিক কারগিল যুদ্ধের। ২৬ জুলাই আসে সেই ঐতিহাসিক দিন। পাক সেনাকে পরাস্ত করে ভারত। কার্গিল বিজয় দিবসে পাকিস্তানকে বক্সিংয়ে পরাস্ত করলেন জাদুমণি সিং মান্দেংবাম। পাক প্রতিদ্বন্দ্বীকে উড়িয়ে জয় উৎসর্গ করলেন কারগিলের বীর সেনাদের।
পুরুষদের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের সুমামা রহমানকে ৫-০ ব্যবধানে হেলায় হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিলেন মণিপুরি বক্সার। জাদুমণি নিজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য। রিংয়ে শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য ছিলেন তিনি। প্রথম রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে বুঝে নিতে সময় নিলেও, এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতীয় বক্সারের দুর্দান্ত সব হুক, নিখুঁত স্ট্রেটের কোনও জবাব ছিল না পাকিস্তানের বক্সারের সামনে।
দ্বিতীয় রাউন্ডে জাদুমণির ডান হাতের জোরাল ঘুষিতে বিপাকে পড়েন পাক বক্সার। স্ট্যান্ডিং কাউন্ট নিতে বাধ্য হন তিনি। তাতেই কার্যত ম্যাচের রাশ চলে আসে ভারতীয় বক্সারের হাতে। শেষ রাউন্ডে রিংয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণও জানান তিনি। কিন্তু প্রতি বারই গতির সঙ্গে পালটা আক্রমণে পাক বক্সারকে টেক্কা দেন জাদুমণি। পাঁচ বিচারকই ভারতের বক্সারের পক্ষেই রায় দেন।
ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর ২২ বছর বয়সি ভারতীয় বক্সার বলেন, "এই জয় কারগিলের বীরদের উৎসর্গ করতে চাই। পরের ম্যাচগুলোয় প্রতিপক্ষদের হারিয়ে ভারতের জন্য সোনা জিততে চাই।" আর একটি জয় পেলেই কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) পদক নিশ্চিত হবে তাঁর। ভারতের মহিলা বক্সার প্রীতি পাওয়ারও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন। এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী প্রীতি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মালাউইয়ের ডেবোরাহ এমতেনজেকে হারান তিনি। তবে দিনের আলো কেড়ে নিল জাদুমণির পাকিস্তান-বধের পর কারগিলের বীরদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য।
