প্রথমে দায়িত্ব পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কথা ছিল, ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হবে ভিক্টোরিয়ায়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করার দায়িত্বভার নিতে অস্বীকার করেছিল তারা। ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের ভবিষ্যৎ একসময় অনিশ্চিত পড়েছিল। শেষপর্যন্ত গেমসের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে গ্লাসগো। এবং বৃহস্পতিবার থেকে এবারের কমনওয়েলথ গেমস শুরু হতে চলেছে।
তবে আয়োজনের বাজেট কমে গিয়েছে অনেকটাই। ২০২২ বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসের বাজেটের থেকে প্রায় ষাট শতাংশ কমে এবারের গেমস আয়োজন হচ্ছে। বেশ কিছু ইভেন্টও এবার হচ্ছে না। কুস্তি, হকি, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন এবং শুটিংয়ের মতো ইভেন্ট এবার বাদ পড়েছে। যার ফলে সমস্যায় পড়ে গিয়েছে ভারত। কারণ, চারবছর আগে বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথে ভারত যে ৬১টি পদক পেয়েছিল, তার মধ্যে সিংহভাগই এসেছিল এই ইভেন্টগুলি থেকে। ফলে এবারের কমনওয়েলথ অভিযান ভারতের কাছে কঠিন হতে চলেছে।
আসন্ন গেমসে ভারত পদক জয়ের ক্ষেত্রে নির্ভর করে রয়েছে বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স এবং ভারোত্তোলনের উপর। পদক জয়ের সবথেকে আশা রয়েছে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ে। এই ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন টোকিও অলিম্পিকে সোনা জয়ী ভারতীয় অ্যাথলিট নীরজ চোপড়া। তবে তাঁর পদক জয়ের লড়াইয়ে সবথেকে বড় কাঁটা পাক জ্যাভলিন থ্রোয়ার আর্শাদ নাদিম। গত প্যারিস অলিম্পকে নীরজকে টপকে সোনা জিতেছিলেন পাক থ্রোয়ার। ভারতীয় তারকাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ থারাঙ্গা। তিনি গতমাসে দোহাতে অনুষ্ঠিত ডায়মন্ড লিগে ৯২.৬২ মিটার ছুড়ে প্রথম স্থান হয়েছিলেন। ফলে নীরজের কাজটা এবার মোটেই সহজ হবে না।
এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের মধ্যে রয়েছেন হাই জাম্পার সর্বেশ কুশারি, লং জাম্পার মুরলী শ্রীশংকর, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স মহল পদক জয়ের জন্য এঁদের দিকে তাকিয়ে আছেন। এছাড়া রয়েছে ৪X৪০০ মিটার রিলে দৌড়ে ভারতের পুরুষ এবং মহিলা দল। গত কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা অ্যাথলেটিক্স থেকে ৮টি পদক পেয়েছিলেন। সেই সংখ্যা ধরে রাখাটা যথেষ্ট কঠিন বলেই মনে করছেন অ্যাথলেটিক্স মহল।
ভারোত্তোলনে ভারতের সবথেকে বড় বাজি মহিলা ভারোত্তোলক মীরাবাঈ চানু। অলিম্পিকে রুপোজয়ী চানু কমনওয়েলথে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু বছর ৩১-এর চানু সাম্প্রতিককালে সেভাবে ছন্দে নেই। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর ভালো ফল করা চানুই এবার ভারোত্তোলনে ভারতের বড় আশা। যদিও ডোপিং বিতর্কে আক্রান্ত ভারতীয় শিবির এবারের ভারোত্তোলন স্কোয়াড ১১ জনে নামিয়ে এনেছে। যার ফলে পদক জয়ের সম্ভাবনাও কমেছে অনেকটাই।
এছাড়া ভারতের পদক জয়ের আশা রয়েছে বক্সিংয়ে। আরও স্পষ্ট করে বললে মহিলা বক্সিংয়ে। নজরে থাকবেন টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোঁহাই। তিনি এখনও পর্যন্ত কমনওয়েলথে পদক জিততে পারেননি। অধরা স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রিংয়ে নামবেন। বার্মিংহ্যামে ব্রোঞ্জজয়ী জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া এবারও পদক জয়ের দাবিদার। এছাড়া রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার, সাক্ষী চৌধুরী এবং অরুন্ধতী চৌধুরী। পুরুষদের বিভাগে নরেন্দর বেরওয়াল, শচীন সিবাচের উপরই পদক জয়ের বাজি ধরছে ভারতের বক্সিং মহল। লন বল ইভেন্টে গতবার ভারতের মহিলা দল ইতিহাস গড়ে সোনা জিতেছিল। পুরুষ দল জিতেছিল। এবারও মনে করা হচ্ছে পদক আসবে এই ইভেন্ট থেকে। ভারতীয় জুডোকারা শেষবার কমনওয়েলথ গেমসে তিনটি পদক জিতেছিলেন। এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন হলেও আশা করা যাচ্ছে তাঁরা ধারাবাহিকতা দেখাবেন। বার্মিংহ্যাম গেমসে ভারত ৬১টি পদক জিতে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল। এবার সই সাফল্য ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ ভারতীয় অ্যাথলিটদের কাছে।
