সোনার হ্যাটট্রিক করেছেন। দেশের পতাকা বুক নিয়ে লিখেছেন নতুন ইতিহাস। কিন্তু সেসমস্তই হয়েছে টানা দু'দিন অভুক্ত থেকে! এমনটাই জানালেন মীরাবাঈ চানু। গ্লাসগোয় ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে ইতিহাস লিখেছেন মণিপুরের এই ভারোত্তোলক। গলায় পদক ঝুলিয়ে তিনি জানালেন, গত দু'দিন কিচ্ছুটি খাননি। তা সত্ত্বেও সব মিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুললেন অনায়াস ভঙ্গিতে।
চলতি কমনওয়েলথ গেমসে চানু সোনা পাবেন, এমনটা অনেকেরই আশা ছিল। কিন্তু গত অলিম্পিকে রুপোজয়ী কতদূর পর্যন্ত ওজন তুলতে পারেন, সেদিকে নজর ছিল ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের। রবিবার পদক জেতার লক্ষ্যে প্রথমটায় চানুকে ধাক্কা খেতে হয়েছিল। স্ন্যাচে ৮২ কেজি তুলতে গিয়ে প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হন। কিন্তু দ্বিতীয়বারেই বাজিমাত। তারপর তোলেন ৮৫ কেজি, রেকর্ড গড়েন কমনওয়েলথ গেমসে। পরে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি ওজন তুলেও নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন।
সব মিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুলে মোট ওজনের বিভাগেও তিনি নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন মীরাবাঈ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ার রুথ আসুকো নিয়ংয়ের থেকে ২২ কেজি বেশি ওজন তুলেছেন। কিন্তু তার আগে টানা দু'দিন কিচ্ছু খাননি মণিপুরের কন্যা। পদক জেতার পর কান্নাভেজা চোখে জানিয়েছেন, দু'দিন কিছু খাননি কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার ছিল। উল্লেখ্য, ওজন বিতর্কের জেরে অলিম্পিক পদক হাতছাড়া হয়েছিল ভিনেশ ফোগাটের। সেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই টানা দু'দিন না খেয়ে ছিলেন চানু।
গ্লাসগোয় ইতিহাস গড়ে তিনি বলেন, টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনার পদক জিততে পেরে গর্বিত। জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজতে শোনা অত্যন্ত আবেগের মুহূর্ত। তখনই মনে হয়েছিল, মা এবং কোচ বিজয় স্যরকে দেওয়া আবার সোনা জেতার প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি।” এই সাফল্যের জন্য কোচ বিজয়, সাপোর্ট স্টাফ, ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, আইওএস, দেশের সকল সমর্থককেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
