বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের ডাবলসে ভারতের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল। কোয়ার্টার ফাইনালে চিনের চতুর্থ বাছাই জিয়া ই ফান এবং ঝাং শু শিয়ানকে ১৬-২১, ২১-১৫, ২১-১৩ ব্যবধানে হারিয়েছে গায়ত্রী গোপীচাঁদ-তৃষা জলি জুটি। মঙ্গলবার ২০২৫-এর অর্জুন পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করেছিল ক্রীড়ামন্ত্রক। সেই তালিকায় ছিলেন জলি-গোপীচাঁদ। অর্থাৎ অর্জুন হওয়ার তিন দিন পরেই দুই শাটলারের হাত ধরে এই ইভেন্টে ১৫ বছর পর মহিলাদের ডাবলসে পদক নিশ্চিত করল ভারত।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের শেষ আটের লড়াইয়ে কার্যত অঘটন ঘটিয়েছে ভারতীয় জুটি। ধারেভারে অনেক এগিয়ে ছিলেন চিনা জুটি। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রথম গেমে হেরেও হাল ছাড়েননি তাঁরা। চিনা জুটির চ্যালেঞ্জ সামলে ম্যাচে ফিরে আসেন তাঁরা। দ্বিতীয় গেমে ২১-১৫ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে ফেরে জলি-গোপীচাঁদ জুটি। তৃতীয় গেমেও দেখা যায় আত্মবিশ্বাসের ঝলক। তাঁদের সামনে ২১-১৩ ব্যবধানে নাস্তানাবুদ হতে হয় চৈনিক জুটিকে।
২০১১ সালে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিল জ্বালা গুট্টা-অশ্বিনী পোনাপ্পা জুটি। এর আগে এই চিনা জুটির বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল জলি-গোপীচাঁদ। কোয়ার্টার ফাইনালেও শুরুটা ভালো হয়নি। ০-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ভারত। এরপর ৫৭ শটের র্যালি খেলে প্রথম পয়েন্ট জেতেন গোপীচাঁদরা। এত সব পরেও ভারতীয় জুটি পিছিয়ে পড়ে ২-৮ ব্যবধানে। এরপর অবশ্য টানা ছ'পয়েন্ট জেতে ভারত। ফলাফল দাঁড়ায় ৮-৯। তা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রথম গেমে হারতে হয় ভারতীয় জুটিকে।
দ্বিতীয় গেম থেকে পরিচিত ছন্দে দেখা যায় ভারতের দুই 'বাঘিনী'কে। গোপীচাঁদদের একেকটা সফল র্যালিতে ফেটে পড়ছিল গ্যালারি। দিল্লির সমর্থকরা 'ভারত মাতা কি জয়', 'ইন্ডিয়া জিতেগা' স্লোগান দিয়ে উৎসাহিত করছিলেন তাঁদের। দ্বিতীয় গেমেও ৪-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও দমে যায়নি ভারতীয় জুটি। ৪৮ শটের র্যালি জিতে সমতা ফেরায়। এরপর আর থামানো যায়নি। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন জলি-গোপীচাঁদরা। জয়ের গন্ধ পাওয়ায় জলির সেলিব্রেশনেরও ঝাঁজ বাড়ে। এমনকী কোচ পুলেল্লা গোপীচাঁদও তাঁদের শান্ত থাকতে বলেন। শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেননি চিনা জুটি। দাপট দেখিয়ে দুরন্ত জয়ে পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় জুটি।
