শেষ সুযোগ। শেষবারের মতো জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের কোর্টে নামা। আর সেখানেই ইতিহাস অনাহত সিংয়ের। কানাডার অন্টারিওতে বিশ্ব জুনিয়র স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপে মিশরের রুকাইয়া সালেমকে ১১-৩, ১১-৭, ১১-৯ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসাবে সিঙ্গেলস বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলেন দিল্লির ১৮ বছরের স্কোয়াশ তারকা।
ট্রফি হাতে আবেগ সামলাতে পারেননি দিল্লির মেয়ে অনাহত। বলেন, "এই জয় আমার কাছে গোটা পৃথিবীর সমান। এখনও মনে হচ্ছে, যেন স্বপ্ন দেখছি।" গত চার বছর ধরে কখনও কোয়ার্টার ফাইনাল, কখনও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে। সেই আক্ষেপের কথাও উঠে এসেছে। "আমি সব সময় বলতাম, এই প্রতিযোগিতা যেন আমার কাছে অভিশাপ। এখানে কখনও নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি।" মন্তব্য অনাহতের।
তাই শেষবারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। অনাহতের কথায়, "এটাই জুনিয়র হিসাবে আমার শেষ বছর। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ারও শেষ সুযোগ ছিল। তাই এই জয়ের মূল্য ভাষায় বোঝানো কঠিন।" ফাইনালের চাপকে দূরে সরিয়ে রেখেই কোর্টে নেমেছিলেন তিনি। "আমি জানতাম, চাপ নিলে খারাপ খেলব। তাই শুধু নিজের খেলাটাই খেলতে চেয়েছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি," বললেন অনাহত।
ভারতীয় স্কোয়াশের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল সাইরাস পোঁচা। তাঁর কথায়, "এটি ভারতীয় স্কোয়াশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। অনাহতের সামনে আরও অনেক বড় সাফল্যের দরজা খোলা।" প্রয়াত এন. রামচন্দ্রনের স্বপ্নের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। "ভারত একদিন ব্যক্তিগত বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেবে– এটাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল।" জুনিয়র সার্কিটে এটাই অনাহতের শেষ প্রতিযোগিতা। বিশ্বজয়ের মুকুট পরে এবার তাঁর চোখ সিনিয়র সার্কিটের নতুন লড়াইয়ে।
