Advertisement
পোষ্য থাকলে ভুলেও বাড়ি সাজাবেন না এই সব গাছে! ঘটতে পারে ভয়ংকর বিপদ
আপনার বাড়িতে রয়েছে এই গাছ?
বাগান হোক ব্যালকনি, বাড়িতে বাহারি ফুল গাছ লাগান কমবেশি সকলেই। ঘুম থেকে উঠে পর্দা সরাতেই মন ভালো করে দিতে অব্যর্থ এই বাগান। কিন্তু জানেন কি, যাদের বাড়িতে চারপেয়ে সন্তান রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে পছন্দ হলেই যে কোনও গাছ লাগানো মোটেই উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ ওই গাছই আপনার পোষ্যের জীবনে ডেকে আনতে পারে বিপদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বাড়িতে পোষ্য থাকলে কোন কোন গাছ বাড়িতে একেবারেই রাখা যাবে না।
অনেকেই বাড়ি সাজান নানারকম ইন্ডোর প্ল্যান্টে। সেই তালিকায় থাকে স্নেক প্ল্যান্ট। জানানে কি এই গাছ পোষ্যদের জন্য বিষাক্ত। কোনও কারণে যদি ওরা এই গাছের পাতার সামান্য অংশও খেয়ে ফেলে তাহলে ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের বাড়িতে চারপেয়ে সন্তান রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে স্নেক প্যান্ট না রাখাই ভালো।
ঘর সাজাতে ব্যবহার করা সাগো প্ল্যান্টের সমস্ত অংশই বিষাক্ত। এর বীজ সবচেয়ে বিপজ্জনক কারণ এতে সাইকাসিন নামক বিষের পরিমাণ বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিষ লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এছাড়া গাছটিতে থাকা অন্যান্য বিষের কারণে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, বিষণ্ণতা এবং স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গুল্ম জাতীয় গাছ, ছোট্ট ছোট্ট ফুল-ওলিয়েন্ডার গাছের সঙ্গে সকলেই পরিচিত। অসম্ভব সুন্দর এই ফুল কিন্তু পোষ্যদের জন্য হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। বিশেষজ্ঞদের মতে এই গাছ অত্যন্ত বিষাক্ত। এর ফলে বমি ও ডায়রিয়ার পাশাপাশি স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে। পোষ্যের মৃত্যুও হতে পারে। এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, “দেখা গিয়েছে এই গাছের মাত্র ১০টি পাতা খেলেই একটি পূর্ণবয়স্ক ঘোড়ার মৃত্যু হতে পারে।”
দেখতে চমৎকার হলেও সবচেয়ে বিষাক্ত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিলি ফুল। কুকুরের তুলনায় বিড়ালদের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিড়াল যদি একটি লিলি ফুল খায়, তবে তাদের কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। কিডনিগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেবে। এমনকি লিলি ফুলের পরাগরেণুর সংস্পর্শও মারাত্মক হতে পারে।
বিষাক্ত ফুলগুলোর তালিকায় রয়েছে লিলি অব দ্যা ভ্যালি। তবে এটিকে লিলি ফুলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। লিলি অফ দ্য ভ্যালি ফুল বিড়াল এবং কুকুর উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক বিশেষজ্ঞের কথায়, “এই ফুলগুলো দেখতে সুন্দর হতে পারে, কিন্তু এই গাছের যেকোনও অংশের সামান্য পরিমাণ খেলেও বমি, হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, নিম্ন রক্তচাপ, দিকভ্রান্তি, কোমা, খিঁচুনি এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”
ফ্লোরিডার অত্যন্ত পরিচিত ফুল হল ল্যান্টানা। অগ্নিবর্ণ এই ফুল কিন্তু কুকুর ও বিড়াল উভয়ের ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক। এগুলো বমি, ডায়েরিয়া, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট এবং যকৃতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লতানো গাছ আইভি বাড়িতে লাগান অনেকেই। কিন্তু এই গাছও অত্যন্ত বিষাক্ত। পাতা এর ফলের চেয়ে বেশি বিষাক্ত হয়ে থাকে। এই গাছের পাতা মুখে গেলে মুখ দিয়ে লালা ঝরা, বমি, পেটে ব্যথা এবং ডায়েরিয়ারা সম্ভাবনা প্রবল।
অনেকেই অন্দরসজ্জার জন্য জেড প্ল্যান্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু জানেন কি এটিও ভয়ংকর বিষাক্ত। এটির পাতা মুখে গেলে বমি, ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শারীরিক ভারসাম্যহীনতা, কাঁপুনি এবং টলমল করে হাঁটার মতো স্নায়বিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:34 PM Apr 13, 2026Updated: 05:34 PM Apr 13, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
