অভিভাবকত্ব। শব্দটির মতোই খটমট তার দায়িত্বভার। একটি খুদেকে বড় করে তোলা মুখের কথা নয়। মানুষের মতো মানুষ করে তোলাই আসল। তার জন্যই বাবা-মায়ের যত সংগ্রাম। আর সে-ই যাত্রাপথে কতই না বাধা আসে। মাঝেমধ্যে খুদে এমন আচরণ করে বসে যা রাতের ঘুম কেড়ে নেয় মা-বাবার। অথচ খুদেদের ওই আচরণ একেবারেই স্বাভাবিক।
বাবা-মায়ের তৈরি করা রুটিনে বাঁধা জীবন খুদেদের না-পসন্দ। সে কারণেই একটি খুদে দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় 'না' বলতে থাকে। আর তা দেখে রেগে যায় কচিকাঁচাদের বাবা-মায়েরা। তাঁরা ভাবেন, হয়তো এই আচরণ স্বাভাবিক নয়। অথচ এই আচরণই একেবারে স্বাভাবিক। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, খুদেরা এই সময় স্বাধীনভাবে কিছু শেখার চেষ্টা করে। তাই সে সবকিছুতেই 'না' বলে।
খেতে বসে খুদেরা নানারকম বায়না করে। হয় খাবে না নইলে খাবার ছুড়ে ফেলে দেবে। এই আচরণ মাঝেমধ্যে বাবা-মাকে ফেলে দেয় বিড়ম্বনায়। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, খুদেদের এই আচরণের ফলে ঘর অপরিষ্কার হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। তার ফলে বাবা-মায়ের রাগ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে কোনও কিছু শেখার কৌতূহলের ফলে খুদেরা দীর্ঘক্ষণ সময় নষ্ট করে খাবারদাবার খেতে চায় না। সে কারণেই সে খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে। তাই খাবারদাবারে বদল আনতে হবে।
কোনও একটা ছোট্ট জিনিস না পাওয়ায় চিৎকার জুড়ে বসে খুদেরা। বায়না করতে থাকে। হাউমাউ করে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। অনেক সময় কান্না থামাতে বেশ বেগ পেতে হয় বাবা-মায়েদের। তার ফলে বিরক্ত হন তাঁরা। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, খুদেরা সহজেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে কারণে তারা অল্পতেই অতিষ্ঠ হয়ে যায়।
একই কাজ বারবার করতে চায় শিশুরা। কিংবা একই জিনিসের বায়না জুড়ে বসে রোজ। যা বড়দের কাছে অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন এমন করে খুদেরা? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা একই রুটিনে থাকলে নিজেকে নিরাপদ বলে মনে করে। সে কারণে তারা ক্রমাগত একই কাজ করে।
বহু শিশু কারও সঙ্গে কিছু ভাগ করে নিতে চায় না। যা অনেক সময়ে বড়দের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-মায়েদের এই অভ্যাসে বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই। তিন-চার বছর বয়স পর্যন্ত এই অভ্যাস থাকে বেশিরভাগ খুদের। তাদের বারবার বলুন। তাতেই ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।
