একা থাকায় মন্দ কিছু নেই। অনেকেই একা সময় কাটাতে পছন্দ করেন এবং ছোট সামাজিক বৃত্তেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু যদি একা থেকে ভালো না লাগে, একাকিত্ব গ্রাস করতে চায়, তবে ভেবে দেখার দরকার রয়েছে বৈকি। মনোবিদরা বলছেন, অনেক অময়েই আমাদের একাকিত্বের কারণ নিহিত থাকে আমাদের আচরণেই। হয়তো সচেতন না হয়েও এমন কোনও আচরণ করে থাকি আমরা, অথবা এমন অভ্যাস মেনে চলি, যা আমাদের সমাজের মধ্যে একঘরে করে রাখে (Loneliness)। তেমনটা হয়ে থাকলে সেসব অভ্যাস বদলাতে হবে আজই।
১. সবসময় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় পান?
যাঁরা সবসময় মনে করেন যে অন্যরা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে, তাঁরা অনেক সময় সামাজিক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন অথবা কথা বলার সময় অতিরিক্ত গুটিয়ে থাকেন। অথচ সব ক্ষেত্রে এমন ভাবনার কোনও বাস্তব ভিত্তি থাকে না।
২. মানসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়বেন, সেই ভয়ে এড়িয়ে চলেন?
কিছু মানুষ নিজের সব সমস্যা নিজেই সামলাতে পছন্দ করেন এবং অন্যের উপর নির্ভর করতে অস্বস্তি বোধ করেন। কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে তা প্রায় ‘আনহেলদি অ্যাটাচমেন্টের’ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, এমনটা ভয় পান এই মানুষেরা।
৩. সম্পর্ক গড়ে উঠলেই আচমকা দূরে সরে যান?
সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কথা বলে সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে দূরে সরে যাওয়াই হয়তো সহজ মনে হয় আপনার। আপনি ফোনের উত্তর দেওয়া বন্ধ করেন, মেসেজের জবাব দেন না অথবা পুরোপুরি যোগাযোগ থামিয়ে দেন। এমন বারবার করলে উলটোদিকের মানুষটিও দূরত্ব বাড়িয়ে নেয় এক সময়। ফলে একা হয়ে পড়েন আপনিই।
৪. নিজের ব্যক্তিগত কথা একেবারেই প্রকাশ করেন না?
যদি একেবারেই নিজের ব্যক্তিগত দিক সম্পর্কে চুপ থাকেন, বন্ধুদের মাঝে গল্প হলেও কেবল দেশ-দুনিয়া-খাওয়া-সাজ নিয়েই কথা বলে যান, তাহলে কখনওই মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে না। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে আপনাকে সামাজিক মনে হলেও আসলে আপনি সমাজ বহির্ভূতই থেকে এমন সব ক্ষেত্রে।
৫. আঘাত পেলেই গুটিয়ে যান?
জীবনের সবটাই নেতিবাচক, এমনটা প্রায় বদ্ধমূল ধারণা জন্মে গিয়েছে আপনার। আঘাত এড়ানোর উপায় একটাই— সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া, আপনার জীবন এই একটি নীতিতেই চলে।
এমন অভ্যাসের কোনওটিই আলাদা করে ক্ষতিকর নয়। তবে যদি মানসিকভাবে ভীষণ একা অনুভব করতে থাকেন, তবে অবশ্যই মনোবিদের সাহায্য নিন সময় থাকতে।
