শ্রাবণ মানেই চারধারে একটা পবিত্র আবহ। আকাশ ভাঙা বৃষ্টির মাঝেই ভক্তকূল মেতে ওঠেন দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায়। শাস্ত্র মতে, এই পবিত্র মাসে বিশ্বজগতের ভার থাকে স্বয়ং আশুতোষের কাঁধে। তাই শ্রাবণে শিবের পুজো করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। তবে জানেন কি, ব্যস্ততার কারণে যদি শিব মন্দিরে গিয়ে বা বাড়িতে নিয়ম মেনে দেবাদিদেবের পুজো করা সম্ভব নাও হয়, তাহলেও রয়েছে এক বিশেষ উপায়? সনাতন ধর্মে এই সময় বৃক্ষ উপাসনার এক গভীর মাহাত্ম্য রয়েছে। শ্রাবণ মাসে মহাদেবের প্রিয় কয়েকটি বিশেষ গাছের আরাধনা করলেই মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফল। দূর হয় জীবনের যাবতীয় বাধা-বিপত্তি, সংসারে ফেরে সুখ-শান্তি।
ফাইল ছবি
কোন কোন গাছের আরাধনা করবেন?
ত্রিদেবের আশীর্বাদধন্য বেলগাছ
মহাদেবের পুজোয় বেলপাতা অনিবার্য। তাই শ্রাবণ মাসে বেলগাছের আরাধনা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এই গাছের পুজো করলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর— তিন দেবতারই একসঙ্গে পুজো করা হয়। শিবের অতি প্রিয় এই উদ্ভিদের উপাসনায় তুষ্ট হন দেবাদিদেব। বাস্তুমতে, বাড়ির চৌহদ্দিতে বেলগাছ থাকলে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। শুভ শক্তির প্রভাবে পরিবারে সমৃদ্ধি আসে।
ফাইল ছবি
শনির দশা কাটায় শমী
শ্রাবণে শমী গাছের আরাধনা করলে শিবের বিশেষ কৃপা মেলে। প্রচলিত বিশ্বাস, বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের বাঁ দিকে শমী গাছ রেখে নিয়মিত পুজো করলে মারাত্মক বাস্তুদোষ কেটে যায়। শুধু তাই নয়, এই গাছের উপাসনা করলে শনির সাড়ে সাতি কিংবা ধাইয়ার অশুভ প্রভাব থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। মহাদেবের আশীর্বাদে দূর হয় গ্রহের কোপ, পরিবারে ফেরে শান্তি।
ফাইল ছবি
মহাদেবের আলয় আকন্দ
আকন্দ ফুল ও গাছ দেবাদিদেবের অত্যন্ত প্রিয়। মনে করা হয়, এই গাছে স্বয়ং শিব অধিষ্ঠান করেন। তাই শ্রাবণ মাসে বাড়ির কাছাকাছি থাকা আকন্দ গাছের পুজো করলে দারুণ সুফল মেলে। বিশেষ করে বাড়ির পূর্ব বা উত্তর দিকে যদি এই গাছ থাকে, তবে তার উপাসনা অত্যন্ত শুভ। এর ফলে সংসারে পজিটিভ শক্তির সঞ্চার হয় এবং গৃহকোণ ধন-ধান্যে ভরে ওঠে।
ফাইল ছবি
লক্ষ্মীলাভে তুলসীর আরাধনা
সনাতন ধর্মে তুলসী গাছকে দেবী লক্ষ্মীর রূপ মনে করা হয়। যদিও তুলসী পাতা শিবপুজোয় নিষিদ্ধ, তবে শ্রাবণ মাসে তুলসী মঞ্চের আরাধনা করলে পরিবারে লক্ষ্মীর দয়া বজায় থাকে। এই পবিত্র মাসে তুলসী পুজো করলে ঘরের বাস্তুদোষ দূর হয়। আর্থিক অনটন কেটে গিয়ে পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।
