shono
Advertisement

Breaking News

North Bengal

নেওড়া ভ্যালির জঙ্গলে বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় ফায়ারফক্স লেসার পান্ডা! বর্ষা মিটলেই হবে সমীক্ষা

সমীক্ষার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে দশ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু পাহাড়ের রাচেলা ডান্ডা ও হাতি ডান্ডা সহ দুর্গম এলাকায় বন কর্মীরা পৌঁছাবেন।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:15 PM Jul 08, 2026Updated: 09:15 PM Jul 08, 2026

ওরা বাসা বাধে উঁচু পাহাড়ি জঙ্গলে। দিনের বেশিরভাগ সময় গাছের ডালে অথবা বাঁশবনে ঘুমিয়ে কাটায়। সন্ধ্যার পর খাবারের সন্ধানে বের হয়। খাবার বলতে বাঁশের কচি পাতা ও ফলমূল। উত্তরের নেওড়া ভ্যালির জঙ্গলে কি সেই বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় শাকাহারী 'ফায়ারফক্স লেসার পান্ডা' অর্থাৎ রেড পান্ডার সংখ্যা বেড়েছে! গত মার্চ-এপ্রিলে বন্যপ্রাণ পর্যবেক্ষণে নেমে বনকর্মীদের এমনই ধারণা হয়েছে। তাই বর্ষা কাটলে বিশেষ সমীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে বন দপ্তর। এবার ওই প্রাণীদের বংশবিস্তারের গতিপ্রকৃতি জানতে মলের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে হায়দরাবাদের ল্যাবরেটরিতে। পাশাপাশি নেওড়া ভ্যালিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মালিঙ্গা প্রজাতির বাঁশ রেড পান্ডার বাসস্থানের উপর কোনও প্রভাব ফেলছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবে বনদপ্তর। বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও বলেন, "ন্যাওড়া ভ্যালিতে সমীক্ষার বিষয়টি চিন্তাভাবনার মধ্যে আছে।''

Advertisement

সমীক্ষার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে দশ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু পাহাড়ের রাচেলা ডান্ডা ও হাতি ডান্ডা সহ দুর্গম এলাকায় বন কর্মীরা পৌঁছাবেন। সেখানে ক্যামেরায় ছবি তোলা, সরাসরি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও পান্ডাদের মলের নমুনা সংগ্রহ করবেন।

জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা অভয়ারণ্য এবং কালিম্পংয়ের নেওরা ভ্যালিতে রেড পান্ডাদের বাসস্থান। ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে অলস, লাজুক ও সংবেদনশীল বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটির সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ চলছে। বনকর্তারা জানিয়েছেন, দুই জঙ্গলে ৭৫টি রেড পান্ডা রয়েছে। তারমধ্যে সিঙ্গালিলায় রয়েছে ৪০টি এবং নেওড়া ভ্যালিতে ৩৫টি। এটা ২০১৮ সালের সমীক্ষার হিসাব। তবে সিঙ্গালিলা ও নেওড়া ভ্যালি ছাড়াও দার্জিলিং চিড়িয়াখানা পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে ২৬টি ফায়ারফক্স লেসার পান্ডা রয়েছে। মেলিং অথবা মালিঙ্গা নামে বিশেষ ধরনের বাঁশের ডগা খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বন্যপ্রাণ পর্যবেক্ষণের সময় বনকর্মীরা ন্যাওড়া ভ্যালির জঙ্গলে একাধিক রেড পান্ডার দেখা পান।

তাদের প্রাথমিক অনুমান, ওই জঙ্গলে বিরল প্রজাতির রেড পান্ডার সংখ্যা বেড়েছে। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় বর্ষা কাটলে শুরু হবে বিশেষ সমীক্ষা। সেটাও যথেষ্ট অ্যাডভেঞ্চার মূলক অভিযান হবে। কারণ, সমীক্ষার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে দশ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু পাহাড়ের রাচেলা ডান্ডা ও হাতি ডান্ডা সহ দুর্গম এলাকায় বন কর্মীরা পৌঁছাবেন। সেখানে ক্যামেরায় ছবি তোলা, সরাসরি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও পান্ডাদের মলের নমুনা সংগ্রহ করবেন। সেটা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে হায়দরাবাদের ল্যাবরেটরিতে। ওই পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে প্রাণীগুলির সংখ্যা ও বিস্তৃতি। পাশাপাশি নেওড়া ভ্যালিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মালিঙ্গা প্রজাতির বাঁশ রেড পান্ডার বাসস্থানের উপর কোনও প্রভাব ফেলছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবে বন দপ্তর। কারণ এই প্রজাতির বাঁশের বিস্তার ভবিষ্যতে বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন আনতে পারে। উল্লেখ্য, রেড পান্ডা সংরক্ষণে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ওই পার্কের অধীন তোপকেদাড়ায় দেশের মধ্যে একমাত্র রেডপান্ডা প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৪০টির বেশি রেড পান্ডা জন্মেছে৷ ওই শাবকদের সিঙ্গালিলা ও নেওড়া ভ্যালির জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement