পাহাড়ের বাঁকে মেঘেদের লুকোচুরি! কিংবা পাইন বনের নির্জনতা। ভ্রমণের আনন্দ কি আর বয়সের ফ্রেমে বাঁধা থাকে? একদমই নয়। তবে বয়স বাড়লে শরীরের সামর্থ্য কমে। তাই বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে যখন পাহাড়ি রাস্তার চড়াই-উতরাই পেরোনোর পরিকল্পনা করবেন, তখন ব্যাগে কী কী থাকছে, সেটাই হয়ে ওঠে আরামদায়ক সফরের চাবিকাঠি। ছোট ছোট পদক্ষেপে বড় আনন্দ পেতে চাইলে স্মার্ট প্যাকিংই আসল মন্ত্র।
কোন সাতটি জিনিস না থাকলেই নয়?
১. ওষুধের ‘মিনি ফার্মাসি’ ও প্রেসক্রিপশন
নিয়মিত যে ওষুধগুলো মা-বাবা খান, তা অন্তত ১০ দিনের অতিরিক্ত মজুত রাখুন। সঙ্গে রাখুন ইনহেলার বা ব্যথানাশক স্প্রে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল চিকিৎসকের সাম্প্রতিক প্রেসক্রিপশন। ডাক্তারের ফোন নাম্বার সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না যেন!
২. সঠিক জুতো ও কম্প্রেশন মোজা
পাহাড়ের এবড়োখেবড়ো রাস্তায় গ্রিপ ভালো এমন জুতোই ভরসা। জুতোর সোলে যেন আর্চ সাপোর্ট থাকে। দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকলে অনেকের পা ফুলে যায়। সেক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ‘কম্প্রেশন সক্স’ বা মোজা জাদুর মতো কাজ করে।
৩. ফোল্ডিং লাঠি ও হিয়ারিং এড
হাঁটাচলায় সামান্য অসুবিধা থাকলেও একটি ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন লাঠি সঙ্গে রাখুন। এটি উঁচু-নিচু রাস্তায় বাড়তি ভারসাম্য জোগাবে। এছাড়া বাবা-মা যদি কানে কম শোনেন, তবে হিয়ারিং এডের অতিরিক্ত ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না।
৪. নথিপত্রের ফটোকপি ও বিমা কার্ড
আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের অরিজিনাল কপির পাশাপাশি অন্তত দুটি করে ফটোকপি রাখুন। এখনকার দিনে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণ বিমা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যাতে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল কভার থাকে, এমন বিমার কার্ডটি হাতের কাছেই রাখুন।
৫. ছোট ছোট প্যাকেটে শুকনো খাবার ও ওআরএস
পাহাড়ের রাস্তায় অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকতে হয়। তাই ব্যাগে ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম, মাখানা কিংবা বিস্কুট রাখুন। শরীর আর্দ্র রাখতে ওআরএস বা গ্লুকোজ মেশানো জল সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. ঘাড়ের বালিশ ও হালকা চাদর
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকা বয়স্কদের জন্য ক্লান্তিকর। একটি মেমরি ফোমের ঘাড়ের বালিশ এবং হালকা ওজনের কমপ্যাক্ট ট্রাভেল ব্ল্যাঙ্কেট তাঁদের সফরকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে।
৭. স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটাইজেশন
হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পাশাপাশি পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের জন্য টয়লেট সিট, স্যানিটাইজার স্প্রে এবং পেপার সোপ অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। প্রবীণদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এটি অত্যন্ত সহায়ক।
পাহাড় মানেই অনিশ্চয়তা। তাই মূল প্যাকিং করার দু’দিন আগে একবার ‘ট্রায়াল প্যাকিং’ করে নিন। ব্যাগ যেন খুব বেশি ভারী না হয়। মা-বাবার সফর যত হালকা হবে, তাঁদের হাসিমুখ ততই অমলিন থাকবে।
