শঙ্করকুমার রায়, রায়গঞ্জ: প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া বিন্দোল এলাকার কাঞ্চন নদীর পাড়ের সুপ্রাচীন ভৈরবী মন্দিরের অবিকল আদি আদল ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। অন্তত পাঁচ শতক আগের সংস্কৃতিতে নির্মিত মন্দিরের প্রত্নতত্ত্ব উপকরণ বিশ্লেষণ করে হুবুহু রঙ সহ ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহার করে সুলতানি আমলের ওই ভৈরবী মন্দির সংস্কার করে পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। আর সেই কাজ শেষ হলে লুপ্ত হওয়া কাঞ্চন বা কাচ নদীপাড়ে পর্যটনে ভিড় নিঃসন্দেহে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় মন্দির সংস্কার কার্যকর করতে সম্প্রতি রায়গঞ্জ শহরের অদুরের ভৈরবী মন্দিরের ভিতর-বাহিরের স্থাপত্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন করেন আর্কিওলজি বিভাগের দুই সদস্যের প্রতিনিধি। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তরফে প্রায় ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন বলে জানান তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের জেলা আধিকারিক শুভম চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে মন্দির পুননির্মাণ শুরু করেছে। চোদ্দ শতকের প্রায় শেষলগ্নের টেরাকোটার মন্দির এবং কালো পাথরের ভৈরবী মূর্তির মূল ঐতিহ্যকে কার্যত সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে সুপ্রাচীন মন্দিরের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করতে বিস্তৃত আলোচনা করেন
রায়গঞ্জ আর্কিওলজি দপ্তরের প্রতিনিধিদের প্রধান রানা দেবদাস এবং জেলার পূর্ত দপ্তরের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার সহ সংশ্লিষ্ট জেলাপ্রশাসন ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সদস্যরাও।
শুরু হয়েছে মন্দির সংস্কারের কাজ।
তবে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক হেরিটেজ কমিশনের (উত্তরবঙ্গ) সদস্য ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, "সুলতানী আমলের ভাতুরিয়া জমিদার গনেশ নারায়ণ শিব ভক্ত ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই বাংলাদেশ থেকে বয়ে আসা রায়গঞ্জের বিন্দোল এলাকার কাঞ্চন নদীর পাড়ে ভৈরবী কালী মন্দির নির্মাণ করেন। হেরিটেজ কমিশনের আর্কিওলজি বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্যে কার্বন পরীক্ষা করে সেইসময়ের ইট, চুন-সুড়কি চিহ্নিত করে সেইসময়ের সংস্কৃতিতে তৈরি অবিকল আদলের মন্দির ফেরানো সম্ভব।"
তবে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, ডিরক্টরেট অফ আর্কিওলজি এন্ড মিউজিয়াম দপ্তরের মাধ্যমে মন্দির দেখভাল করা হবে। এরফলে ঐতিহ্যশালী মন্দিরের হৃতগৌরব ফিরে এলে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলে আশা।
