এক বেলায় কেদারনাথে পুজো সেরে পুরোহিত চলে যেতেন বদ্রীনাথে। দুই ধামকে জুড়ত এক রহস্যময়, দুর্গম পথ। পৌরাণিক সেই পথই এখন হারিয়ে গিয়েছে হিমবাহের গভীরে। নাম তার প্যানপাটিয়া কল। হিমালয়ের অন্যতম কঠিন ও বিপজ্জনক এই ট্রান্স-হিমালয়ান রুট জয় করে ফিরল ভারতীয় পর্বতারোহীদের দল ‘হিমালয়ান উইজার্ড’। তবে এই জয় স্রেফ আনন্দের নয়, এ যেন যমরাজের আস্তানা থেকে বেঁচে ফেরার এক ভয়াবহ গল্প।
কেদার-বদ্রীর রহস্যময় পুরোহিত-পথে বাঙালি অভিযাত্রী।
দুর্গম চড়াই পার হতেই শুরু হয় আসল পরীক্ষা। গোটা দলকে পড়তে হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আবহাওয়া এতটাই বিগড়ে যায় যে তাঁবু খাটানোও সম্ভব হয়নি। খোলা আকাশের নিচে, স্লিপিং ব্যাগ ছাড়া, মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্রেফ বসে রাত কাটাতে বাধ্য হন ১১ জন অভিযাত্রী। চৌখাম্বার ঠিক সামনে, বরফের চাদরে কাঁপতে কাঁপতে কেটেছে সেই ভয়ানক রাত।
৩ জুন বদ্রীনাথ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন সাত্যকি চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক, কৌশিক সহ ১১ জনের অভিযাত্রী দল। সঙ্গে ৯ জন পোর্টার ও ৪ জন গাইড। লক্ষ্য ছিল ৫২৬০ মিটার উচ্চতার প্যানপাটিয়া পাস ছুঁয়ে দ্বিতীয় কেদার মধ্যমহেশ্বরে নামা। ২০১১ সালে পর্বতারোহী তপন পণ্ডিত এই রুট পার করেছিলেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর ফের সেই পথেই ইতিহাস লিখল এই দল। কিন্তু প্রকৃতির রোষে প্রতি পদে ছিল মৃত্যুর হাতছানি।
নিজস্ব ছবি
দুর্গম চড়াই পার হতেই শুরু হয় আসল পরীক্ষা। গোটা দলকে পড়তে হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আবহাওয়া এতটাই বিগড়ে যায় যে তাঁবু খাটানোও সম্ভব হয়নি। খোলা আকাশের নিচে, স্লিপিং ব্যাগ ছাড়া, মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্রেফ বসে রাত কাটাতে বাধ্য হন ১১ জন অভিযাত্রী। চৌখাম্বার ঠিক সামনে, বরফের চাদরে কাঁপতে কাঁপতে কেটেছে সেই ভয়ানক রাত।
পরদিন পাসের ঠিক ৫০০ মিটার আগে শুরু হয় তীব্র তুষারঝড়। চারদিক ধবধবে সাদা। দৃষ্টিসীমা শূন্য। ৫৪০০ মিটার উচ্চতায় প্রাণ হাতে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্প করতে হয় দলকে। ফুরিয়ে আসছিল রসদ। অভিযাত্রীদের অন্যতম সাত্যকি চটোপাধ্যায় সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলছেন, “প্রায় দিন খাবার জুটত না। সারাদিনে মাত্র ৮০০ মিলিলিটার জল জুটত। বাকি সময় বরফ চিবিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে হয়েছে। জলের কষ্ট কী, তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছি এই সময়। মরতে মরতে বেঁচে এসেছি।”
নিজস্ব ছবি
অবশেষে সমস্ত বাধা চূর্ণ করে ৯ জুন সকাল সাড়ে ন’টায় প্যানপাটিয়ার শীর্ষে ওড়ে ভারতের পতাকা। রূপকথার সেই পুরোহিত-পথ তখন তাঁদের পায়ের নিচে। ১০ জুন ভয়ঙ্কর কাচনি খাল পার হয়ে দলটি নিরাপদে নেমে আসে মধ্যমহেশ্বরে। রোমাঞ্চ আর খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নয়া ইতিহাস তৈরি হল হিমালয়ে।
