মেঘের দেশ পেরিয়ে যদি এক টুকরো স্বর্গ দেখতে চান, তবে পা বাড়াতে পারেন উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি পথে। চারধারে রূপোলি বরফে ঢাকা সাতটি আকাশছোঁয়া শৃঙ্গ। মাঝখানে শান্ত, নীল এক হিমবাহ হ্রদ। তারই তীরে জেগে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম গুরুদ্বারা— শ্রী হেমকুণ্ড সাহিব। ২০২৬ সালের যাত্রা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রকৃতির এই অনুপম রূপ আর আধ্যাত্মিক শান্তির টানে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ এই কঠিন পথ পাড়ি দেন।
ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৬৩২ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই পুণ্যভূমি শুধু শিখ ধর্মাবলম্বীদের নয়, সাধারণ ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও এক পরম বিস্ময়। বিশ্বাস করা হয়, দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহ তাঁর পূর্বজন্মে এই হ্রদের তীরেই গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি এই গুরুদ্বারের স্থাপত্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করেই পুণ্যার্থীরা হ্রদের বরফগলা জলে ডুব দেন। পাশেই রয়েছে লক্ষণ মন্দির। ত্রেতা যুগে শ্রীরামচন্দ্রের অনুজ লক্ষণ এখানে তপস্যা করেছিলেন বলে লোকবিশ্বাস। ফলে ভক্তি আর প্রকৃতির এক অপূর্ব সহাবস্থান ঘটেছে এখানে।
ছবি: সংগৃহীত
যাত্রা শুরু করবেন কীভাবে?
এই যাত্রার মূল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে এর ট্রেকিংয়ের মধ্যে। গোবিন্দঘাট হল এই সফরের মূল বেসক্যাম্প। সেখান থেকে প্রথমে ১৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় ঘাঙারিয়াতে। এই পথে হাঁটা ছাড়াও ঘোড়া বা পালকির ব্যবস্থা মিলবে। ঘাঙারিয়া থেকে আসল পরীক্ষা শুরু। সেখান থেকে হেমকুণ্ড সাহিবের দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার হলেও রাস্তা অত্যন্ত খাড়া এবং দুর্গম। তবে চারপাশের পাহাড়ি সৌন্দর্য সমস্ত ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। মনে রাখবেন, হেমকুণ্ড সাহিবে রাতে থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই দুপুর দুটোর মধ্যেই নামা শুরু করতে হবে।
কখন যাবেন ও কেমন প্রস্তুতি নেবেন?
মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই মন্দিরের দরজা খোলা থাকে। শীতকালে ভারী তুষারপাতের কারণে এই পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। জুন মাসে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল থাকে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসকেও ভ্রমণের জন্য সেরা সময় বলা চলে। পাহাড়ি আবহাওয়া চিরকালই খামখেয়ালি। মে মাসের শেষেও এখানে বৃষ্টির কারণে সাময়িক যাত্রা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তাই যাওয়ার আগে সরকারি পোর্টাল থেকে বাধ্যতামূলক অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সেরে নেওয়া জরুরি। উপযুক্ত গরম জামাকাপড় ও রেইনকোট সঙ্গে রাখা আবশ্যক।
ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স। ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে পৌঁছাবেন?
আকাশপথে আসতে চাইলে নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল দেরাদুনের জলি গ্র্যান্ট। সেখান থেকে গোবিন্দঘাটের দূরত্ব প্রায় ২৬৮ কিলোমিটার। ট্রেনে আসতে চাইলে ঋষিকেশ, হরিদ্বারের টিকিট কাটতে হবে। ঋষিকেশ থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে সহজেই সড়কপথে অলকানন্দার পাশ দিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় গোবিন্দঘাটে। জরুরি প্রয়োজনে সীমিত হেলিকপ্টার পরিষেবাও পাওয়া যায়। এই ভ্রমণের সঙ্গে বোনাস হিসেবে দেখে নিতে পারেন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট 'ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স' বা ফুলের উপত্যকা।
