সিকিমের পাশাপাশি ফের ভারী তুষারপাত দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতে। তুষার চাদরে মুখ ঢেকেছে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম স্থান ফালুটও। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টির সঙ্গে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৬৩৬ মিটার উঁচু রাজ্যের ওই উচ্চতম শৃঙ্গে। অসময়ে পরপর তুষারপাতের ঘটনায় খুশি পর্যটন ব্যবসায়ী মহল। যদিও আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, ভারী তুষারপাতের জন্য বিপর্যস্ত হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই পাহাড়ের উঁচু এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, "রবিবার পর্যন্ত সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ের উঁচু এলাকায় বৃষ্টি ও তুষারপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ওই কারণে পর্যটকদের পাহাড়ের উঁচু এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।" আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকে তুষারপাতের জেরে শ্বেতশুভ্র হয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের সান্দাকফু। এর আগে ২১ মার্চ, ২৮ মার্চ সেখানে তুষারপাত হয়েছে। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, "মার্চ-এপ্রিল মাসে সান্দাকফুতে ধারাবাহিক তুষারপাতের ঘটনা বিরল। তুষারপাতের খবর মিলতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ঝড়বৃষ্টি এবং ভারী তুষারপাত। ওই কারণে পর্যটকদের ঝুঁকি নিতে নিষেধ করা হয়েছে।"
বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তা। ছবি-সংগৃহীত
মঙ্গলবার সকাল থেকে সান্দাকফুতে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। বরফের চাদরে ঢেকেছে মানেভঞ্জন। তবে বৃষ্টি হলেও বরফ পড়েনি দার্জিলিং শহর এবং টাইগার হিলে। মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের টুংলু, টামলিং-সহ নিচু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তুষারপাতের খবর চাউর হতে সান্দাকফুর উদ্দেশে রওনা হন প্রচুর পর্যটক। সেখানে গাছের পাতা, রাস্তা, ঘাস ঢেকেছে বরফে। এদিকে একই পরিস্থিতি উত্তর এবং পূর্ব সিকিমে। মঙ্গলবারও ভারী তুষারপাত হয়েছে উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন, জিরো পয়েন্ট, গুরুদংমার হ্রদ এবং পূর্ব সিকিমের নাথু-লা, ছাঙ্গু উপত্যকায়। গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বরফে তলিয়ে বিপজ্জনক হয়েছে। পাশাপাশি ইউমথাং থেকে জ়িরো পয়েন্টের রাস্তাও তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচুং এবং মঙ্গন যাওয়ার একাধিক রাস্তা খোলা রয়েছে, যদিও হালকা যানবাহন ছাড়া বড় গাড়ি চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
