সবুজ পাহাড়, মেঘের আনাগোনা আর ঝরনার শব্দ— মহারাষ্ট্রের লোনাভলার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমনই এক স্বপ্নালু দৃশ্যপট। মুম্বই ও পুণের মাঝখানে অবস্থিত এই পাহাড়ি শহর পর্যটকদের কাছে যেন এক টুকরো স্বর্গ। প্রতি সপ্তাহান্তেই পাহাড়ি বাতাস আর ট্রেকিংয়ের রোমাঞ্চ নিতে এখানে ভিড় জমান বহু মানুষ। তবে এই মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমান্তরালেই লুকিয়ে রয়েছে এক গা ছমছমে রহস্য। লোনাভলাকে ঘিরে পল্লবিত হয়েছে অজস্র ভয়াল ও অবিশ্বাস্য গল্পকথা। জানেন সেই কাহিনি?
ছবি: সংগৃহীত
সৌন্দর্যের আড়ালে মৃত্যুফাঁদ?
লোনাভলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ভুশি বাঁধ। ১৮৬০ সালে তৈরি এই প্রাচীন জলাধারটি প্রতি বর্ষায় তার রূপের ডানা মেলে দেয়। কিন্তু এই রূপসী জলরাশির গভীরেই নাকি লুকিয়ে আছে ঘোর বিপদ। একের পর এক পর্যটকের জলে ডুবে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘ড্যাম অফ ডেথস’ নামে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেই ২৯ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে এখানে। এই ঘটনার কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি আজও।
ছবি: সংগৃহীত
'ভৌতিক' হোটেল
শুধু প্রকৃতি নয়, লোনাভলার কিছু হোটেল ও ভিলাকে ঘিরেও রয়েছে অদ্ভুত সব কাহিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত ‘হোটেল রাজকিরণ’। শোনা যায়, এখানকার একটি বিশেষ ঘরে রাত কাটালেই নাকি মেলে গা শিউরে ওঠা অনুভূতি। কখনো বন্ধ ঘরে মাঝরাতে বিছানার চাদর টেনে ধরা, কখনো বা রহস্যময় নীল আলোর উপস্থিতি— এমন একাধিক অভিজ্ঞতার দাবি করেছেন আতঙ্কিত পর্যটকরা।
ছবি: সংগৃহীত
শুধু রাজকিরণ নয়, খান্ডালা ঘাটের আয়েশা ভিলায় ছায়ামূর্তির উপস্থিতি রোমাঞ্চ জাগায়। লোনাভলার বাতাসে যেন সর্বদাই মিশে থাকে অশরীরীদের ফিসফিসানি। আয়েশা ভিলার গ্যারাজে আজও নাকি অবহেলায় পড়ে রয়েছে কাচ ভাঙা, টায়ার ফুটো এককালের বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়ি, যা এই ভৌতিক আবহকে আরও তীব্র করে তোলে।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে যাবেন?
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর পুণে এবং মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা বাস মিলবে।
রেলপথে: লোনাভলার নিজস্ব রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। মুম্বই ও পুণে থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে সোজা পৌঁছানো যায়।
সড়কপথে: মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে চমৎকার মসৃণ সড়কপথে গাড়ি বা দূরপাল্লার বাসে চেপে সহজেই লোনাভলায় যাওয়া সম্ভব।
