shono
Advertisement
Holi 2026

নিম-পালংয়ের আবিরে কাটুক দোল, পাড়ি জমান কলকাতার অদূরে ইচাডিতে

একেবারে মাটির গন্ধ মেশানো 'বনপলাশ' নামে ভেষজ আবির হাতে নিয়ে পরখ করে কেনার সুযোগ থাকছে পর্যটকদের।
Published By: Sayani SenPosted: 02:53 PM Feb 28, 2026Updated: 05:16 PM Feb 28, 2026

মুখোশ গ্রামের পর আবির গ্রাম! হ্যাঁ, ঠিক শুনছেন। পুরুলিয়ার বলরামপুরের ইচাডি গ্রামকে রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের আওতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ আবিরের গ্রাম হিসাবে তুলে ধরে পর্যটনে জুড়ে দিয়েছে। দোল-হোলির (Holi 2026) প্রাক্কালে পলাশের মরশুমে ওই আবিরের গ্রাম ইচাডিতে এখন পা রাখছেন পর্যটকরা। দু'পাশে গাছগাছালিকে রেখে কালো পিচ রাস্তায় চোখ টানছে জনজাতিদের এই গ্রাম। সাজানো গোছানো দেওয়াল চিত্রে ভরপুর আর টিলা-ডুংরি ঘেরা পলাশের সৌন্দর্যে একেবারে মাটির গন্ধ মেশানো 'বনপলাশ' নামে ভেষজ আবির হাতে নিয়ে পরখ করে কেনার সুযোগ থাকছে পর্যটকদের।

Advertisement

বলরামপুরের ইচাডিকে আবিরের গ্রাম হিসাবে তুলে ধরছে পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। ছবি: সুমিত বিশ্বাস

সেই সঙ্গে 'ভুরকা ইপিল' মহিলা স্বনির্ভর দলের হাতে তৈরি আবির জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব বাংলা স্টলে। তাদের হাতে তৈরি আবিরের বাজারজাতকরণ করছে ওই খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। আর এই আবির তৈরি করেই এখন স্বনির্ভর ওই গ্রামের মহিলারা। এখন আর নিজের হাত খরচা চালাতে স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না তাদের। আবির তৈরি শেষে তা বিক্রি করেই হাতে আসে টাকা। আর এভাবেই বদলে গিয়েছে ইচাডি। বদল গ্রামের নামের স্বীকৃতিতেও।

পুরুলিয়ার বলরামপুরের ইচাডি গ্রামে আবির তৈরি করছেন স্বনির্ভর দলের সদস্যরা। ছবি: সুমিত বিশ্বাস

পর্ষদের জেলা আধিকারিক পাপু মুখোপাধ্যায় বলেন, "ওই ইচাডিকে আমরা আবিরের গ্রাম হিসাবে তুলে ধরেছি। যাতে সেখানকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা আবির তৈরি করে মোটা টাকা আয় করতে পারেন। আর এই কাজের মধ্য দিয়ে পর্যটনে যুক্ত হয়ে গিয়েছে ওই গ্রাম।" ছৌ মুখোশ গ্রাম বাঘমুন্ডির চড়িদার খ্যাতি সারা বিশ্বে। সেই অনুপ্রেরণাতেই যে বাঘমুন্ডির পড়শি ব্লক বলরামপুরের জনজাতির এই গ্রাম আবিরের গ্রাম নামে স্বীকৃতি পেয়েছে। গ্রামে প্রায় ১৩০ টি পরিবারের বসবাস। তার মধ্যে অধিকাংশ পরিবারের মহিলা ওই স্বনির্ভর দলের সদস্য হয়ে আবির তৈরি করছেন। ওই স্বনির্ভর দলের সভানেত্রী জলিকা টুডু, সদস্য উর্মিলা টুডু বলেন, "২০১৭ সালে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে ২০২৩ থেকে পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ আমাদের কাজকে তাদের আওতায় নিয়েছে। তারপর থেকেই আমাদের লক্ষ্মীলাভ।"

পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ পুরুলিয়া শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, আবির তৈরির জন্য একটি ঘর, মেশিন সহ নানান সরঞ্জাম সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বলরামপুর বিডিও-র তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে। এবার শীতের স্পর্শ থাকায় পলাশ এখনও সেভাবে হয়নি পুরুলিয়ায়। তাই এবার জঙ্গলমহলের রঙের উৎসবে বড় চমক পালং শাকের ভেষজ আবির। সেই সঙ্গে থাকছে বিট, নিমপাতার আবিরও। আর গত বছরের পলাশ থেকে ওই আবিরও মিলছে। তবে পলাশ আবিরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ১০০ গ্রাম পলাশ আবিরের দাম ৩৫ টাকা, নিম ৪৫, বিট ও পালং শাকের আবির বিকোচ্ছে ৫০ টাকা করে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement