বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি : পর্যটন শিল্পে নয়া রেকর্ড সিকিমের! গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ১৭ লক্ষেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন ওই রাজ্য। উত্তরের পাশাপাশি পশ্চিম ও দক্ষিণ সিকিমেও বুকিংয়ের ভালো সাড়া মিলছে। আর এতে উচ্ছ্বসিত সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। শুধু গত বছর নয়, এই বছরের শুরুটাও ভালো হয়েছে। বছরের প্রথমদিন থেকেই সিকিমে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতেই খুলে যাচ্ছে লাচেন। ফলে আগামিদিনে পর্যটকদের আরও ভিড় বাড়বে বলেই আশা।
সিকিমের পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সি শুভকর রাও জানান, সিকিম পর্যটন শিল্পে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫ জুড়ে ১৭.১২ লক্ষেরও বেশি পর্যটক ওই রাজ্য ভ্রমণে গিয়েছেন। ২০২৪ সালে পর্যটক সংখ্যা ছিল ১৬.২৫ লক্ষ। ২০২৫ সালে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকদের সংখ্যা ৯৫ হাজারের বেশি ছিল। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। অন্যদিকে চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্রকৃতি যেন সিকিমে তুষারপাত ঢেলে দিয়েছে। তুষারপাতের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের আশায় পর্যটকের ভিড় উপচে পড়েছে সেখানে। উত্তর সিকিমে ঠাই নেই দশা হয়েছে। প্রত্যেকটি হোম স্টে, হোটেল বুকড। অন্যদিকে পূর্ব সিকিমের নাথু-লা পাস ও ছাঙ্গু উপত্যকাতেও ভিড় বেড়েছে। আধিকারিকের কথায়, পরিস্থিতি যা তাতে জানুয়ারি মাস জুড়ে সেখানে ভিড় থাকার সম্ভাবনা। স্বভাবতই নতুন বছরেও পর্যটন শিল্পে রেকর্ড ভাঙার খেলায় সিকিম এগিয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।
এই প্রসঙ্গে সে রাজ্যের পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বলেন, "অক্টোবরের হড়পা বানের পর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের ফলে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। নাগা-লাচুং রুট চালু হওয়ায় পর্যটকদের বুকিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।" তিনি জানান, উত্তর সিকিমের পর্যটন সম্ভাবনা আশাব্যাঞ্জক। লাচেন রুটের তারাম চু সেতুর কাজ শেষের পথে। ফেব্রুয়ারিতে চালু হবে। এটা চালু হলে লাচেন এবং গুরুদোংমার হ্রদ সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খোলার পথ মসৃণ হবে বলেই জানাচ্ছেন সি শুভকর রাও। তাঁর কথায়, পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। কারণ, সেখানে তুষারপাত চলছে।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর সিকিম ছাড়াও পশ্চিম ও দক্ষিণ সিকিমেও পর্যটকদের বুকিং বেড়েছে। সিকিমে বর্তমানে হোটেল, রিসোর্ট এবং হোমস্টেগুলোতে প্রতিদিন ৪২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার পর্যটক থাকতে পারছেন। পর্যটক সংখ্যা বেড়ে চলায় হোমস্টের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
